দুই বছর ১০ মাস বন্ধ থাকার পর চূড়ান্তভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে দেশে চালের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে ২০২২ সালের জুনে সরকার সুগন্ধি চাল রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর থেকে নানা সময়ে ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে আলোচনা চললেও আর অনুমতি দেয়নি সরকার।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার প্রধান আমদানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে একটি চিঠি পাঠায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ওই চিঠিতে ১৩৩ প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন পরিমাণে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতির কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ১৮ হাজার ১৫০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই রপ্তানির জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া রপ্তানির জন্য বেশকিছু শর্তও পালন করতে হবে রপ্তানিকারকদের। গত ২২ জানুয়ারি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ কমিটির সভায় সুগন্ধি চাল রপ্তানি উন্মুক্ত করার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
সরকার এবার সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে পরিমাণ ও ন্যূনতম দাম দুটোই বেঁধে দিয়েছে। এখন বছরে দেশ থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা যাবে এবং প্রতি কেজির ন্যূনতম মূল্য হতে হবে ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে প্রায় ১৮ লাখ টনের মতো সুগন্ধি চাল উৎপাদন হয়। যেখান থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ৮৭৯ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছিল।
এ বিষয়ে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ড্যানিশ ফুডের হেড অব বিজনেস দেবাশীষ সিংহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানি বাজারটির দখলে নিয়েছিল ভারতের সুগন্ধি চাল। কিন্তু চালে কীটনাশকের উপস্থিতি থাকায় তারা সেই রপ্তানি ধরে রাখতে পারেনি। যে কারণে বাংলাদেশি চালের যে সুনাম বা পরিচিতি ছিল সেটা এখনো আমাদের কাজে লাগবে বলে আমরা মনে করছি।
জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে অন্তত ১৩০টির ও বেশি দেশে সুগন্ধি চাল রপ্তানি হতো। বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করত।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, কালিজিরা, কালিজিরা টিপিএল-৬২, চিনিগুঁড়া, চিনি আতপ, চিনি কানাই, বাদশাভোগ, কাটারিভোগ, মদনভোগ, রাঁধুনিপাগল, বাঁশফুল, জটাবাঁশফুল, বিন্নাফুল, তুলসীমালা, তুলসী আতপ, তুলসী মণি, মধুমালা, খোরমা, সাককুর খোরমা, নুনিয়া, পশুশাইল, দুলাভোগ ইত্যাদি নামের সুগন্ধি চালগুলো রপ্তানি হয়ে থাকে।
