কক্সবাজারে ৬ জনকে অপহরণ: শফিউল্লাহকে খুঁজছে পুলিশ

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৫৮ পিএম

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার একই গ্রামের ৬ জনকে কক্সবাজারের টেকনাফে অপহরণের ঘটনায় মোহাম্মদ শফিউল্লাহ নামের এক অপহরণচক্রের হোতাকে খুঁজছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজার ছড়া বনবিট পূর্ব পাশে গহীন পাহাড় থেকে ৬ জনকে উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধারের পর অপহৃতদের মধ্যে রশিদ আহমদ নামের একজন বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি অপহরণ মামলা রুজু করেছেন। আর ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মোহাম্মদ শফিউল্লাহকে। তবে মামলার এজাহারে এই শফিউল্লাহর বিস্তারিত কোন পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।

টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অপহরণকারীরা এই ৬ জনকে সাগরপথে ইন্দোনেশিয়া পাচারের জন্য গহীন পাহাড়ে আটকে রেখেছিলেন। পরে পুলিশ সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে ছয়জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার ছয়জনকে আদালতে পাঠানো হবে। তারা বিচারকের সামনে ৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেবে। এরপর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

গত ১৫ এপ্রিল বিকেলে জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম লোহারমহল গ্রামের ৬ জন কাজের খোঁজে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। ১৬ এপ্রিল কক্সবাজার পৌঁছার পর তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে তাদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

এরা হলেন, মো. লুকুছ আলীর ছেলে রশিদ আহমদ (২০), ফারুক আহমদের ছেলে মারুফ আহমদ (১৮), আজির উদ্দিনের ছেলে শাহিন আহমদ (২১), আব্দুল মান্নানের ছেলে এমাদ উদ্দিন (২২), সুফর উদ্দিনের ছেলে খালেদ হাসান (১৯) ও মৃত ছবর আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৫৫)। তারা সকলেই জকিগঞ্জ উপজেলার ঈদগাঁও বাজার এলাকার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অপহৃত রশিদ আহমদ অপর তিনজনের স্বজনদের সাথে নিয়ে টেকনাফ থানায় অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর পুলিশের একটি টিম এ নিয়ে কাজ শুরু করে।

পুলিশ জানিয়েছ, এজাহারে থাকা মোহাম্মদ শফিউল্লাহর বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না থাকলেও একে ধরতে পুলিশ চেষ্টা করছে। মূলত এই ৬ জন একজনের নামই জানেন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের তথ্য বলছে, এ নিয়ে গত ১৫ মাসে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫১ জন এবং উখিয়া থেকে ৮৮ জনকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। যার মধ্যে বেশিভাগ মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেও হত্যা করা হয়েছে ৩ জনকে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত