বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়াবে বন্ডেড ওয়্যার হাউজ

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২৫, ১২:১৫ এএম

খায়রুল আলম সুজন

ভাইস প্রেসিডেন্ট

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স অ্যাসোসিয়েশন

উন্নত দেশের কোনো বন্দরে কনটেইনার খুলে সেই কনটেইনারের পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হয় না। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে তা হয়ে আসছে। বর্তমানে ৩৮টি আমদানি পণ্যের সঙ্গে আরও ১২টি পণ্য যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো অফডক থেকে ডেলিভারি নেওয়া হবে। কিন্তু আমদানি পণ্যের প্রায় ৭৫ শতাংশ ডেলিভারি দেওয়া হয় বন্দরের ভেতর থেকে। এতে বন্দরের সক্ষমতায় ঘাটতি দেখা দেয়। বিশে^র উন্নত বন্দরগুলোর মতো আমাদের ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের যদি ‘বন্ডেড ওয়্যার হাউজ’ স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে পণ্যগুলো সরাসরি ওয়্যার হাউজে চলে যেত। আর সেখান থেকেই আমদানিকারকদের পৌঁছে দিতেন ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা। বিশে^র সব বন্দরে এভাবেই হয়ে আসছে। একসময় চট্টগ্রাম বন্দর সম্পর্কে বলা হতো, এই বন্দরের সক্ষমতা নেই। ৩০ লাখ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে গিয়ে বন্দর অচল হয়ে পড়বে। বাস্তবে কি তা হয়েছে? হয়নি, কারণ রপ্তানি পণ্যগুলো যেমন অফডক হয়ে বন্দরে যাচ্ছে, তেমনি নির্ধারিত আমদানি পণ্য অফডকে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর এতে বন্দরের চাপ চলে গেছে অফডকে। ফলে বন্দর জেটির ভেতরে স্পেস পেয়ে যাওয়ায় সক্ষমতা বাড়াতে পেরেছে। ঠিক তেমনিভাবে যদি ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের এভাবে ওয়্যার হাউজ নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়া যায়, তাহলে আগামীতে বে-টার্মিনাল অপারেশনে আসার আগ পর্যন্ত কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে বন্দরের যে চাপ আসবে, তা সহজেই উত্তরণ ঘটাতে পারবে।

বন্ডেড ওয়্যার হাউজ প্রাথমিকভাবে সব ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের না দিলেও পাইলট আকারে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বন্ডেড ওয়্যার হাউজ করা যায়। এখানে সব ফ্রেইট ফরোয়ার্ডাররা পণ্য নিয়ে আসবে। এতে বন্দরের ভেতরে পণ্যের চাপ কমবে এবং বন্দরের জেটি ফ্রি থাকবে। আর ফ্রি থাকলে বন্দরের জেটিতে অবস্থানরত জাহাজগুলো থেকে দ্রুত পণ্য ওঠানামার কাজ করা যাবে।

তবে বর্তমানে জিসিবি, এনসিটি ও সিসিটির পাশাপাশি পিসিটি (পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল) পুরোদমে অপারেশনে গেলে বন্দরের চাপ কিছুটা কমবে। আগামীতে আসছে লালদিয়ার চরে মায়ারস্ক এপি মুলারের কনটেইনার টার্মিনাল। ফলে ২০৩১ সালে বে-টার্মিনাল অপারেশনে আসার আগ পর্যন্ত বন্দরের কার্যক্রমে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত