হাতের ছোঁয়ায় গড়া কুমিল্লার খাদি পেল জিআই স্বীকৃতি

আপডেট : ০২ মে ২০২৫, ০৭:৪৬ পিএম

অবশেষে ‘ভৌগোলিক নির্দেশক’ (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পেল কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী খাদি কাপড়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে কুমিল্লার খাদিসহ ২৫টি পণ্যের হাতে তোলে জিআই সনদ। ঐতিহ্য রক্ষার এ অর্জনে খুশি তাঁতী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

তাঁতিদের দাবি, হাতে তৈরি এ শিল্প বাঁচাতে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। 

দেবীদ্বারের প্রবীণ তাঁতী চিন্তাহরণ দেবনাথ বলেন, খাদি আমাদের রক্তে মিশে আছে। কিন্তু তুলা ও শ্রমিকের অভাবে এখন সব বন্ধ। সরকার ভর্তুকি দিলে তাঁত ঘরে আবার সাড়া ফিরবে।

১৯২১ সালে মহাত্মা গান্ধীর 'স্বদেশি আন্দোলন’ এর সময় জাতীয় প্রতীকে রূপ নেয় খাদি। তখন থেকেই এর চাহিদা বাড়ে। হাতে কাটা সুতা দিয়ে তৈরি এই কাপড় আজও পরিবেশবান্ধব ও আরামদায়ক পোশাক হিসেবে পরিচিত।

কুমিল্লা খাদিঘরের মালিক প্রদীপ কুমার রাহা বলেন, দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের কাছে কুমিল্লার খাদির আলাদা কদর আছে। জিআই স্বীকৃতি রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। 

তাঁতিরা জানান, চান্দিনা ও দেবীদ্বারে একসময় শত শত তাঁত থাকলেও এখন সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। মেশিনলুম খাদি বাজার দখল করে ফেলেছে। তাঁত পুনর্জাগরণে সরকারের সহায়তা একান্ত প্রয়োজন।

জেলা প্রশাসক মো. আমিরুল কায়ছার বলেন, গত বছর কুমিল্লার রসমালাই জিআই তালিকায় আসে। এবার খাদি পেল। বিজয়পুরের মৃৎশিল্পকেও স্বীকৃতির আওতায় আনতে কাজ চলছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, কুমিল্লাকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে তিনটি পণ্যের জিআই সনদের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি পণ্য ইতোমধ্যে স্বীকৃতি পেয়েছে।

স্থানীয়দের আশা, জিআই স্বীকৃতি কুমিল্লার খাদিকে শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও নতুন পরিচিতি এনে দেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত