কুয়েটে কাটেনি অচলাবস্থা, হতাশ শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৪ মে ২০২৫, ০৮:৫১ পিএম

অচলাবস্থা কাটেনি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট)। দীর্ঘ আড়াই মাস পর আজ রবিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকরা ক্লাসে যাননি। এ অবস্থায় কবে নাগাদ ক্লাস শুরু হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষক লাঞ্ছিতকারী শিক্ষার্থীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরবেন না তারা। এদিকে দীর্ঘদিন পর একাডেমিক কার্যক্রম চালু হলেও ক্লাস শুরু না হওয়ায় হতাশ শিক্ষার্থীরা। তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, আলোচনা চলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ দুই মাস আটদিন পর রবিবার থেকে কুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম চালু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকরা ক্লাসে যাননি। শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাব সবই ছিল ফাঁকা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসলেও একাডেমির কার্যক্রম চালু না হওয়ায় বেশ হতাশ দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের।

কুয়েটের আন্দোলনকারী একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে ভুলত্রুটির জন্য শিক্ষকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আমরা শিক্ষকদের সঙ্গে বিদ্বেষমূলক কোনও আচরণে যেতে চাই না। প্রয়োজনে আমরা আবারো শিক্ষকদের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইব।

তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন ছিল কুয়েটের উপাচার্যের বিরুদ্ধে, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আমরা কোনো আন্দোলন করিনি। ইতিমধ্যে দুই মাসেরও বেশি সময় ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। আমরা চাই দ্রুত ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক।

কুয়েটের শিক্ষকরা জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সংঘর্ষে কুয়েটের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়। কয়েকজন শিক্ষকও ঐ সময় আহত হয়েছিলেন। তারপরও ঐ দিন বিকেল থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্ত কুয়েটের মেডিক্যাল সেন্টারে সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদকে অবরুদ্ধ করে রাখে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী। তারা বিদায়ী উপাচার্যসহ কয়েকজন শিক্ষককে মারধর, লাঞ্ছিত ও গালাগাল করেন। পরবর্তী দুই মাস আন্দোলন চলাকালে কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষকদের নিয়ে কটূক্তি করেন। এ নিয়ে শিক্ষকরা চরম ক্ষুব্ধ।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. ফারুক হোসেন বলেন, শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশৃঙ্খলাকারীসহ শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার পূর্বের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। তবে নতুন উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে শিক্ষক সমিতির। আগামীকাল (সোমবার) সাধারণ সভায় নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান তিনি।

কুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহিদুল ইসলাম বলেন, গত ১৮ এপ্রিল শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় শিক্ষক লাঞ্ছিতকারীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরে যাবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা ক্লাসে যাননি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাস-পরীক্ষা নেবেন না।

সূত্র জানায়, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনকল্পে সকাল সাড়ে ১০টায় সদ্য যোগদানকারী ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. হযরত আলী প্রশাসনিক ভবনের সভা কক্ষে শিক্ষক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেন।

এ ব্যাপারে কুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ ইলিয়াছ আক্তার বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কুয়েট কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।

কুয়েটের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা বলেন, সংকট নিরসনে আলোচনা চলছে। দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার জন্য শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত