যেকোনো আগ্রাসনের দুঃসাহস দেখালে ভারতকে উপযুক্ত জবাব দিতে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। রবিবার (৪ মে) পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী এক বৈঠকে এমন হুঁশিয়ারি দেন।
পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সম্পর্কে রাজনীতিবিদদের অবহিত করতে আইএসপিআর মহাপরিচালক ও তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এ বৈঠকের আয়োজন করেন। তবে প্রধান বিরোধী দল পিটিআই এ বৈঠকে অংশ নেয়নি।
দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়েছে, বৈঠকে জেনারেল চৌধুরী বলেন— ‘আমাদের ওপর আগ্রাসন হলে সশস্ত্র বাহিনী শত্রুকে উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত।’
জবাবে বৈঠকে উপস্থিত মূলধারার সব রাজনৈতিক দল সশস্ত্র বাহিনীর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো মনে করে— আঞ্চলিক শান্তি নষ্ট করতে ভারতের যেকোনো প্রচেষ্টা বানচালে সশস্ত্র বাহিনীর পাশে থাকা উচিত।
ব্রিফিংয়ের আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ভারতের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর কাছ থেকে মতামত নেওয়াই ছিল বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
অপর একটি সূত্র ডনকে জানিয়েছে, পহেলগাঁওয়ে ভারত কীভাবে ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বাস্তবায়ন করেছে, সে বিষয়ে রাজনীতিবিদদের অবহিত করা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, ভারতের বক্তব্য বহির্বিশ্বে তেমন সাড়া না ফেলায় হামলার পর পাকিস্তানের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে। ভারতের যেকোনো দুঃসাহসিক আগ্রাসন বানচালে সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কেও অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।
ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়া সিনেটর মুহাম্মদ আবদুল কাদির জানান, পহেলগাঁওয়ে ভারত কীভাবে এবং কেন হামলা চালিয়েছে সে সম্পর্কে বৈঠকে অবহিত করা হয়েছে।
ভিডিও ক্লিপের সাহায্যে পাকিস্তানে বিশেষ করে বালুচিস্তানে সন্ত্রাসবাদে ভারতের জড়িত থাকার বিষয়েও রাজনীতিবিদদের অবহিত করে সশস্ত্র বাহিনী।
বৈঠকে পিপিপি নেতা রাজা পারভেজ আশরাফ, কামার জামান কাইরা এবং সাজিয়া মারি; পিএমএল-এনের ব্যারিস্টার আকিল এবং তারিক ফজল চৌধুরী, তাল্লাল চৌধুরী; প্রধানমন্ত্রীর সহকারী পারভেজ খাট্টাক; এমকিউএম-পি'র ফারুক সাত্তার; এবং কাশ্মীরি নেতা শাহ গোলাম কাদির উপস্থিত ছিলেন।
গত ২২ এপ্রিল ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর হামলার পর পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলেছে।
ভারত এই ঘটনার জন্য পাকিস্তানকে দোষারোপ করে এবং সিন্ধু জল চুক্তি (আইডব্লিউটি) স্থগিত, ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত এবং দিল্লিতে পাকিস্তান হাই কমিশন বন্ধ করা, ভিসা বাতিল করাসহ বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
পাকিস্তান এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং জবাবে ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ, বাণিজ্য স্থগিত এবং অতিরিক্ত কূটনৈতিক পদক্ষেপসহ পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে।
