এলাকায় আনন্দ মিছিল

পিরোজপুরের আলোচিত সন্ত্রাসী নাছির যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার

আপডেট : ১২ মে ২০২৫, ০২:৫৫ পিএম

পিরোজপুর সদর থানায় বিস্ফোরক, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টা, চুরি, বেআইনি সমাবেশ ও ভাঙচুরের একাধিক মামলার আসামি কুখ্যাত সন্ত্রাসী নাসির উদ্দিন হাওলাদারকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ভাঙা প্রেস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইফাদ বাবু অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন।

দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নাসির পিরোজপুর জেলায় ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী রাজত্ব কায়েম করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। নিজের স্বার্থ হাসিলে সে একাধিক নেতার ছত্রছায়ায় ছিল। মামা ও কৃষক লীগের পিরোজপুর জেলা সভাপতি মো. চান মিয়া মাঝিকে ব্যবহার করে এক সময় একেক জন নেতার ঘনিষ্ঠ হয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি ছাড়া করা ছিল তার নিয়মিত কার্যক্রম। এলাকার সাধারণ মানুষ ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও ছিল নাসিরের অভ্যাস।

এই সন্ত্রাসীকে ঘিরে আরও অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেও বিল ভাউচার দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ, ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজ এবং বিনা ভোটে পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত শ ম রেজাউল করিমের অনুগত হিসেবে পরিচিত ছিল নাসির। ক্ষমতার দাপটে তার চলাফেরা ছিল দুর্বিনীত।

যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ জানায়, পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. রবিউল ইসলামের পাঠানো রিকুইজিশনের ভিত্তিতে এসআই ইফাদ বাবু এই অভিযান পরিচালনা করেন এবং মামলার ২ নম্বর আসামি নাসিরকে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আটক করা হয়।

নাসিরের গ্রেপ্তারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। বহু মানুষ আনন্দ মিছিল বের করে এবং মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করে।

জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল পিরোজপুর সদর থানায় একটি বিস্ফোরক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমসংক্রান্ত মামলা হয়। মামলার বাদী পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও সাংবাদিক মো. জহিরুল ইসলাম কলিম। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আলহাজ শামীম বিন সাঈদী ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায়, তার নির্বাচনী প্রচারে ঢাকা থেকে পিরোজপুরের দুর্গাপুরে গেলে চান মিয়া মাঝির নেতৃত্বে ২০–২৫ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং লিফলেট ছিনিয়ে নেয়। এসময় গুলি ছোঁড়া হয় এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

পরদিন ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আবারো চান মিয়া মাঝির নেতৃত্বে ৫০–৬০ জন সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র, বোমা, রামদা, হকিস্টিক ও লাঠিসোটা নিয়ে কলিমের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়ির সামনে গুলি ছুঁড়ে, বোমা ফাটায় এবং প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ঘরে ভাঙচুর চালিয়ে স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নেয়। এসময় বৃদ্ধ মা ও স্ত্রীকে ভয় দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং কলিমকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর প্রাণরক্ষার্থে কলিম ও তার পরিবার বাড়ি ছেড়ে ঢাকায় আশ্রয় নেয়।

মামলার এজাহারে চান মিয়া মাঝি ছাড়াও মুরাদ হোসেন মাঝি, নাসির উদ্দিন হাওলাদার, হারুনার রশিদ বাদশা, মো. মাসুদ মাঝি, রশিদ শাহরিয়ার মাঝি, লোকমান হোসেন হাওলাদার, মহিউদ্দিন হাওলাদার ঝন্টু, সামশুদ্দিন কালু, মো. সাখাওয়াত হোসেন মল্লিকসহ আরও ২৫–৩০ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়ের হয়েছে ৩৪১/৩০৭/৪২৭/৩৮০/৩৮৫/৫০৬ ধারায়, মামলা নম্বর ০৪/৬২, তারিখ ০৭-০৪-২০২৫ ইং।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত