বিইউবিটিতে সফলভাবে অনুষ্ঠিত এআই অলিম্পিয়াড ২০২৫-এর জাতীয় পর্ব

আপডেট : ১৮ মে ২০২৫, ০৯:২৩ এএম

‘বাংলাদেশ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অলিম্পিয়াড ২০২৫’-এর জাতীয় পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)-তে। এ প্রতিযোগিতা যৌথভাবে আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এবং বিইউবিটি।

গত ৩ ও ১০ মে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বাছাই পর্বের ভিত্তিতে ১৭১ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। অংশগ্রহণকারীরা দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্রিটিশ কারিকুলামভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্বাচিত হন।

সকাল ৮টায় নিবন্ধন ও উপহার সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী পর্ব শেষে নির্ধারিত কক্ষে আয়োজিত হয় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী ‘মেশিন লার্নিং ও প্রোগ্রামিং কনটেস্ট’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অলিম্পিয়াডের দলনেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. বি. এম. মইনুল হোসেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. শওকত আলী। তিনি বলেন, “জাতীয় পর্যায়ে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী আয়োজনের অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত। আমাদের শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় দক্ষ করে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।”

চলতি বছর নতুন সংযোজন হিসেবে আয়োজিত হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পাইথন প্রোগ্রামিং বিষয়ক ৩০ মিনিটের একটি কুইজ পর্ব, যাতে ছিল বহুনির্বাচনি প্রশ্ন এবং শূন্যস্থান পূরণের ধরণ। এই কুইজে জুনিয়র ও সিনিয়র—দুই বিভাগে মোট ২৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

প্রতিযোগিতার পাশাপাশি “লিভিং ইন এআই ইরা” শীর্ষক একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ক্যাগল প্ল্যাটফর্ম নিয়ে আয়োজিত হয় একটি কারিগরি কর্মশালা।

আয়োজনের সমাপনী পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, পুরস্কার বিতরণ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত আলোচনা। সমাপনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রথম রৌপ্যপদক বিজয়ী ধনঞ্জয় বিশ্বাস অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্মসচিব (আইসিটি প্রমোশন ও গবেষণা অনুবিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) ড. মো. তৈয়বুর রহমান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তাধারা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইউবিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. শওকত আলী। তিনি বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি বিষয়ক আগ্রহ সৃষ্টিতে এবং তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন— ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ, অলিম্পিয়াডের দলনেতা ও ঢাবির আইসিটি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. বি. এম. মইনুল হোসেন, বিডিওএসএনের সভাপতি মুনির হাসান, বিইউবিটির আইকিউএসি ও বিআরআইসি পরিচালক অধ্যাপক শান্তি নারায়ণ ঘোষ, সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুর রহমান, রিভ চ্যাটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক এম. রেজাউল হাসান।

এছাড়া বিইউবিটি ও বিডিওএসএনের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও প্রতিযোগী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এআই অলিম্পিয়াড ২০২৫-এ প্রথম স্থান অর্জন করেন লাবিব শাহরিয়ার, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন আবদুল্লাহ জোবায়ের এবং তৃতীয় হন মো. রিসাত ইসলাম। বিজয়ীরা চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক এআই অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তাদেরকে প্রদান করা হয়েছে সনদপত্র, আকর্ষণীয় পুরস্কার এবং অনলাইন ও অফলাইন প্রশিক্ষণের সুবিধা।

কুইজ প্রতিযোগিতার জুনিয়র ও সিনিয়র বিভাগেও বিজয়ীদের বেছে নেওয়া হয়। জুনিয়র বিভাগে প্রথম হন আকদ ইকবাল হক এবং সিনিয়র বিভাগে শীর্ষস্থান দখল করেন সাখাওয়াত হোসেন সৈকত।

প্রতিযোগিতার সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা করে বিইউবিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত