বাইশ গজের মাঠ থেকে প্রস্থানে দেশের ক্রিকেটের চার পান্ডব। মুশফিকুর রহিমও খেলছেন কেবল একটিমাত্র সংস্করণে। জাতীয় দলের জ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার বলতে এখন মেহেদী হাসান মিরাজ বা নাজমুল হোসেন শান্তদের কথাই আসবে। একদিন তারাও অবসরে যাবেন। তারপর কারা হাল ধরবেন? সেটা নিশ্চিত করতেই ভবিষ্যতের তারকা ক্রিকেটার তৈরি করতে পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
উদীয়মান ক্রিকেটারদের বিকাশে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিসিবি। ‘এ’ দলের জন্য ২০২৮ সাল পর্যন্ত ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রামের (এফটিপি) অংশ হিসেবে সাতটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিশ্চিত করেছে বোর্ড। এ ছাড়া অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে, ফলে আরও কিছু সিরিজ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ উদ্যোগটি জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পাইপলাইন আরও শক্ত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ ‘এ’ দল ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলকে আতিথ্য দিচ্ছে। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ চার দিনের ম্যাচটি চলছে মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এর আগে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে স্বাগতিকরা।
পরবর্তী মিশন আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে। সেখানে ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ‘এ’ দল। সংক্ষিপ্ত সংস্করণ ঘিরে আয়োজিত এ সফরের মূল লক্ষ্য হলো তরুণ ক্রিকেটারদের বিদেশের কন্ডিশনে খেলিয়ে অভিজ্ঞ করে তোলা। ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ সফরে আসবে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল। সিরিজে থাকবে দুটি চার দিনের ম্যাচ ও তিনটি ওয়ানডে। ওই বছরের আগস্ট–সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ‘এ’ দল সফরে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকায়।
২০২৭ সাল আরও চ্যালেঞ্জিং—দুটি বিদেশ সফর রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডে গিয়ে দুটি করে চার দিনের ম্যাচ ও তিনটি করে ওয়ানডে খেলবে তারা। ২০২৮ সালের একমাত্র নিশ্চিত সফর এখন পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার মাটিতে।
এই কাঠামো উদীয়মান ক্রিকেটারদের জন্য নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করবে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার আগেই ভিন্ন ভিন্ন কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা দেবে।
নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে দলে থাকা বাংলাদেশের মিডল অর্ডার ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম অংকন কথা বলেছিলেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। তিনি এই ‘এ’ দল প্রোগ্রামকে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রস্তুতির জন্য দুর্দান্ত প্ল্যাটফর্ম বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় এটা খুব ভালো একটা সুযোগ। জাতীয় দলে খেলার আগে আন্তর্জাতিক মানের দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাচ্ছি আমরা। এই সিরিজগুলো যত বেশি হবে, ততই আমাদের অভিজ্ঞতা বাড়বে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাস নিয়ে ঢুকতে পারব।’
তিনি ঘরের মাঠের পাশাপাশি বিদেশ সফরের গুরুত্বও তুলে ধরেন, ‘দেশে–বিদেশে—সব জায়গায় খেলা হওয়া উচিত। এখন যেমন দেশের মাঠে আন্তর্জাতিক মানের দলের বিপক্ষে খেলছি, এটা দারুণ অভিজ্ঞতা। বিসিবি নিশ্চয়ই বিষয়টি গুরুত্ব দেবে, এবং আমি আশাবাদী সামনে আরও অনেক সিরিজ আসবে।’
বিসিবির এ রোডম্যাপ শুধু ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিকদের পথ তৈরিই করছে না, বরং ক্রিকেট কাঠামোর ভিত্তি আরও শক্ত করে দিচ্ছে—যার ফল মিলবে সামনের দিনে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে।
তালগোল না পাকিয়ে ধোনিকে বিদায় নিতে বললেন শ্রীকান্ত
মোহামেডান যেন বার্সেলোনা, শিরোপা নিশ্চিতের পরের ম্যাচেই হার