ময়মনসিংহে চাহিদার চেয়ে বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত 

আপডেট : ২৪ মে ২০২৫, ১০:০২ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলার ১৩ উপজেলায় কোরবানির জন্য গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া মিলিয়ে প্রস্তুত আছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৯৮৮টি নিরাপদ গবাদি পশু। এর বিপরীতে জেলায় কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৮৯টি। এই হিসেবে উদ্বৃত্ত থাকছে ৫৮ হাজার ৯৯টি পশু। অতিরিক্ত পশু ঈদের আগে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে পাঠাতে না পারলে স্থানীয় হাটগুলোতে অনেক পশু অবিক্রিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে খামারিদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। 

ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলায় ২৪ হাজার ৬৩৫টি খামারে ষাঁড় ও গাভী মিলিয়ে মোট কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ৮৯ হাজার ৬৩৬টি এবং মহিষ ১ হাজার ৬৬টি, ছাগল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৬৭টি ও ভেড়া ৫ হাজার ৬১৯টি। সব মিলিয়ে গত কোরবানির তুলনায় এবছর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে ১২ হাজার কোরবানির পশু। 

এবার জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে ১৫২টি কোরবানির পশুর হাট বসবে। বড় হাটগুলোতে ৫২টি মেডিকেল দল কাজ করবে। এ ছাড়া ভারতীয় গরু যাতে অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে এ নিয়ে সচেতন রয়েছে প্রশাসন।

এদিকে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে শেষ মুহূর্তে চলছে পশু পরিচর্যার কাজ। ব্যক্তি ও খামারি পর্যায়ে গরু মোটাতাজাকরণে সবাই ব্যস্ত।

ময়মনসিংহ সদরের ভাবখালি গ্রামের গরুর ফার্মের মালিক দুই ভাই বুলবুল আহমেদ ও শরীফ আহমেদ জানান, প্রতিবছর তারা কোরবানিতে তার গরু বিক্রি করে থাকে। এবারো ২৫-৩০ টি বিভিন্ন জাতের গরু বিক্রির লক্ষ রয়েছে। এবার খামারে ভালো মানের দেশি প্রজাতির গরু আছে। সেই সঙ্গে রয়েছে বিদেশিও। দামও নাগালের মধ্যে। এখানে গরুর মূল্য একলাখ থেকে তিন লাখ দামের রয়েছে। যা সাধারণ লোকজনের আওতার মধ্যেই রয়েছে বলে জানান তারা।

ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের খামারী মীর জাহিদ বলেন, ‘গত কয়েক বছর ভারত থেকে গরু আনা বন্ধ থাকায় দেশীয় গরুর চাহিদা বেড়েছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে তার ফার্মে প্রায় ৩০টি গরু লালন-পালন করেছেন তিনি। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবার মাঝারি আকারের গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। খামারে বর্তমানে বিক্রিযোগ্য ২৭টি ষাঁড় রয়েছে। প্রত্যেকটির দাম ৮০ হাজার থেকে শুরু করে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। গরুগুলো দেশি ও শাহীওয়াল জাতের।’ 

জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ওয়াহেদুল আলম বলেন, ‘রোজার শুরু থেকে জেলার প্রতিটি খামার পরিদর্শন করে খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জেলায় চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকবে কোরবানির পশু। ক্রেতাদের চাহিদা ও সুবিধার কথা চিন্তা করে এবং খামারিদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির কথা বিবেচনা করে পশুর হাটের পাশাপাশি অনলাইনেও গবাদিপশু কেনাবেচার মাধ্যম রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রধান প্রধান হাটগুলোতে ভেটেরিনারি সার্জন এবং জাল টাকা শনাক্তকরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন,‘এবার ভারত থেকে অবৈধ পথে কোনোভাবেই যেন গরু প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। এছাড়া দিনের অতিরিক্ত গরমের সময় খাদ্য সরবরাহ কম করা, প্রচন্ড গরমে কৃমিনাশক ব্যবহার বা টিকা দেয়া ও পরিবহন পরিহার করতেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দফতরের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার পরামর্শও দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত