ঢাবি শিক্ষার্থী সাম্য হত্যাকাণ্ড

পুলিশের সংবাদ সম্মেলনেও মেলেনি অনেক প্রশ্নের উত্তর

আপডেট : ২৭ মে ২০২৫, ০৮:৫৫ পিএম

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক কারবারি মেহেদীর অনুসারীদের কাছে থাকা ট্রেজার গান দেখতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে খুন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য। হত্যাকাণ্ডের মূলহোতাসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার শেখ মো.সাজ্জাদ আলী।

তবে হত্যার মেটিভ, হত্যাকাণ্ডে কতজন জড়িতসহ কয়েকটি সাংবাদিকদের অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি সংবাদ সম্মেলন। এদিকে পুলিশে বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সাম্যর ভাই সরদার আমিনুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, গত ১৩ মে রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কতিপয় দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। এবং ঘটনার রাতেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গা থেকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় মামলাটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। 

পরবর্তীতে আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে কক্সবাজার, মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে মূলহোতাসহ আরও ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

নতুন করে গ্রেপ্তার আট জন হলেন- রাব্বী, মেহেদী, পাভেল, রিপন, সোহাগ, রবিন, হৃদয়, সুজন সরদার। 

গ্রেপ্তার মেহেদীর দেখানো মতে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিন নেতার মাজারের সন্নিকটে মাটিচাপা দিয়ে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুইটি সুইস গিয়ার চাকু উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে দুই জন ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।

সোহরাওয়ার্দী এরিয়াতে তিনটি গ্রুপ মাদকের করেন। একটির নেতৃত্ব দেন মেহেদী। ঘটনার দিন সাম্য ও তার দুই বন্ধু বাইকযোগে উদ্যানে যায়। এসময় তারা মেহেদী গ্রুপের সদস্য রাব্বীর হাতে ট্রেজার গান দেখতে পায়। এসময় সাম্য ট্রেজার গানের বিষয় জানতে চায়। এই নিয়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে অন্যান্য মাদক কারবারিরা ঘটনাস্থলে আসে এবং ধস্তাধস্তি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে হাতাহাতির একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ড ঘটে। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনেক ফুডকার্ট আছে। সেখানে অনেক রাত পর্যন্ত খাবার পাওয়া যায়। আমরা এখন পর্যন্ত জানতে পেরেছি, সাম্য ও তার দুই সহপাঠী খাবারের জন্য সেখানে যায়। খাবারের জন্য গেলে ট্রেজার গানটি দেখে সাম্যের সন্দেহ হয়। জিনিসটা কি সেটি দেখার জন্য এবং সেটি নিতে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটি ঘটে।
 
ঘটনাস্থলে আশপাশে কোনো ফুর্ডকার্ট না থাকার বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডিবি কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান আছে। আমরা জানতে পেরেছি ঘটনাস্থলে পাশে ফুডকার্ট আছে। 

হত্যাকাণ্ডের মোটিভ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে এখন পর্যন্ত আমরা পেয়েছি৷ এর নেপথ্যে আর কোনো ঘটনা আছে কিনা, অন্য কোনো বিষয় আছে কিনা সেটি নিবিড়ভাবে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা তদন্ত করতে গিয়ে দেখেছি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদক কারবারিদের তিনটি গ্রুপে ভাগ করা। একটি গ্রুপ তিন নেতার মাজারের ওখানে, একটি মাঝখানে, একটি ছবির হাঁটে। তিনটি গ্রুপ মাদকের কারবার পরিচালনা করে। একটি গ্রুপের দায়িত্বে আছে মেহেদী। যে ৮ জন গ্রেপ্তার হয়েছে সবাই মেহেদীর গ্রুপের। সে ওই গ্রুপের দলনেতা। মেহেদী মূলত সুইস গিয়ারগুলো সাপ্লাই দিয়ে থাকে৷ ঘটনার দিন একটি কালো ব্যাগে করে মেহেদী সুইস গিয়ারগুলো আনে এবং তাৎক্ষণিক বাকিদের কাছে সরবরাহ করে।

সাম্যের শরীরে যে স্থানে আঘাত করা হয়েছে এটি খুবই সেন্সসেটিভ। এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই ঘটনার মূল আসামি আমাদের রিমান্ডে এলে আমরা হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভটি বের করার চেষ্টা করবো।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে খবর পেয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আসেন নিহত সাম্যের বড় ভাই সরদার আমিনুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ আমাদেরকে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি জানায়নি। তবে পত্রিকায় নিউজ দেখে এখানে আসি। পুলিশ বলছে হত্যাকাণ্ডটি হিট অব দ্যা মোমেন্টে হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে এসেছে, ১৬৪ ধারায় একজন জবানবন্দি দিয়েছে, যে মূল আসামি সে হত্যার পর তাকে বাইকেযোগে উদ্যান পার করে দেওয়া হয়। সেখানে আরেকটি গ্রুপের সঙ্গে তিনি চলে যান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত