আজ মুক্তি পাচ্ছেন এটিএম আজহারুল ইসলাম

আপডেট : ২৮ মে ২০২৫, ০৮:৩৯ এএম

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম অবশেষে খালাস পেলেন। আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের ভিত্তিতে আজ বুধবার সকালে তার মুক্তি কার্যকর হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই খালাসের রায় দেন। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ২০১৪ সালের মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে রায়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে তাকে মুক্তি দিতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতেই রায়ের অনুলিপি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে কেরানীগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পাঠানো হয়, কারণ বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন আজহারুল ইসলাম।

ঢাকা বিভাগের কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মো. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘খালাসের কাগজপত্র রাতে দেরিতে পৌঁছায়। যাচাই-বাছাই শেষে তা বিএসএমএমইউ-এর প্রিজন সেলে পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রাতে মুক্তি না দিয়ে সকালেই তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আজ বুধবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিএসএমএমইউ-এর প্রিজন সেল থেকে এটিএম আজহারুল ইসলামকে মুক্তি দেওয়া হবে। এ উপলক্ষে দলটির পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানানো হবে।

দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, ‘দলের নেতাকর্মীরা আজহারের মুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে দেখছেন এবং তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুতি নিয়েছেন।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজহারের মুক্তিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াতের ইউনিটগুলো শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক ও শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। মামলার আপিল শুনানি শুরু হয়েছিল চলতি মাসের ৬ মে।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, হেলালসহ আরও অনেকে। উপস্থিত ছিলেন দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী এবং দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত