ডা. জুবাইদার আপিলের রায় ঘোষণা আজ

আপডেট : ২৮ মে ২০২৫, ০৯:৪৩ এএম

তারেক রহমানের স্ত্রী ও চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় দেওয়া তিন বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা আপিলের রায় ঘোষণা হবে আজ বুধবার। একই মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দুই ধারায় ছয় ও তিন বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত।

বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এই রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত সোমবার শুনানি শেষে আদালত ২৮ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

আপিলকারীর আইনজীবী এস এম শাহজাহান দাবি করেন, মামলায় যে সম্পত্তিগুলো তারেক রহমানের নামে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনোটিই অবৈধ বা জ্ঞাত আয়ের বাইরে নয়। এমনকি এসব সম্পদের একটি টাকাও দেশের বাইরে নয়, বরং সবই বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। তাঁর ভাষায়, ‘বাংলাদেশের বাইরে এই পরিবারের কোনো ঠিকানা নেই।’

তিনি বলেন, সেনানিবাসে মইনুল রোডের যেই বাড়িটি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তাকেও মামলায় অবৈধ সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেছে দুদক। অথচ ওই বাড়ি সরকারি নীতিমালার আওতায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া গুলশানের আরেকটি সম্পত্তির কথা বলা হয়েছে, যার সরকারি মূল্যমান ৩৩ টাকা। সেগুলোকেও মামলা থেকে অবৈধ সম্পদ হিসেবে দেখিয়ে তারেক রহমানকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনাকে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমানের খালাস বিষয়ে আইনজীবী শাহজাহান বলেন, ‘আমরা আদালতে বলেছি, জুবাইদা রহমান আইন মেনে যথাযথভাবে আপিল করেছেন। আমাদের দেশে পূর্বের অনেক মামলায় এমন নজির আছে, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি আপিল না করলেও আদালত প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে খালাস দিয়েছেন।’

তিনি উদাহরণ হিসেবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, গিয়াসউদ্দিন আল মামুন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার কথা উল্লেখ করেন। বলেন, এসব মামলায় প্রধান বিচারপতির আদালত প্রমাণ না থাকলে অভিযুক্তের খালাস প্রযোজ্য বলে রায় দিয়েছেন। একই যুক্তিতে জুবাইদা রহমান খালাস পেলে তারেক রহমানও সে সুবিধা পেতে পারেন।

“আমরা আদালতে বলেছি, যদি দেখা যায় তারেক রহমানের কোনো সম্পত্তি অবৈধভাবে অর্জিত নয়, তবে জুবাইদা রহমানের খালাসের সুবিধা তারেক রহমানকেও দেওয়া যেতে পারে। ইতোপূর্বেও এমন নজির আছে। কোর্ট তখন বলেন সেগুলো দাখিল করতে। আমরা আগামীকাল তা জমা দেব। আশা করি, ন্যায়বিচার পাবো। জুবাইদা রহমান খালাস পাবেন এবং তার স্বামী তারেক রহমানও খালাস পাবেন বলে আমরা প্রত্যাশা করি।”

এর আগে, গত ১৪ মে হাইকোর্ট তিন বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা ডা. জুবাইদা রহমানের আপিল গ্রহণ করেন এবং রায় নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেন। ওইদিনই মামলার জরিমানার কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।

এর আগে গত ১৩ মে হাইকোর্ট ৫৮৭ দিন বিলম্বে করা আপিলের দায়ের অনুমোদন দেন। এরপরই জুবাইদা রহমান নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন।

২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর বিরুদ্ধে সম্পদের তথ্য গোপন এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে।

মামলার বিচার শেষে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. আছাদুজ্জামান রায় দেন। রায়ে, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় তারেক রহমানকে তিন বছর এবং ২৭(১) ধারায় ছয় বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি তিন কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

একই মামলায় ডা. জুবাইদা রহমানকে ২৭(১) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৩৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পরে সরকারের নির্বাহী আদেশে তার দণ্ড এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর স্বামী তারেক রহমানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন ডা. জুবাইদা রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর পর চলতি বছরের ৬ মে শাশুড়ি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশে ফেরেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত