ট্রাম্প-শি’র ৯০ মিনিটের ফোনালাপ, ইতিবাচক সম্পর্কের ইঙ্গিত

আপডেট : ০৬ জুন ২০২৫, ১২:২৪ এএম

বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৫ জুন) তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ৯০ মিনিটের ফোনালাপে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনা শিগগিরই সমাধানে সম্মত হয়েছেন দুই নেতা। খবর সিএনএন

ফোনালাপকে ‘খুবই ইতিবাচক’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘শিগগিরই তার অর্থনীতি বিষয়ক দলের সঙ্গে আলোচনার ব্যবস্থা নেবেন। এবং তিনি ও শি পরস্পরকে নিজ নিজ দেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’

ট্রাম্প বলেন, ইরান ও ইউক্রেনের মতো অন্যান্য ভূ-রাজনৈতিক ইস্যু বাদ দিয়ে ফোনালাপে প্রায় পুরোটাই বাণিজ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘এই ফোনালাপের ফলে উভয় দেশ খুবই ইতিবাচক উপসংহার এসেছে।’

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফোনালাপে শি একে অপরের উদ্বেগকে সম্মান এবং ওয়াশিংটনকে চীনের বিরুদ্ধে নেওয়া নেতিবাচক অবস্থান পাল্টানোর আহ্বান জানান।

শি জিনপিং বলেন, ‘চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করার জন্য আমাদের হাল ধরতে হবে এবং সঠিক পথ নির্ধারণ করতে হবে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ এমন একসময়ে হলো যখন বিরল খনিজ সম্পদের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশ দুটির মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

এপ্রিল মাস থেকে চীন হঠাৎ করেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও চুম্বক রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গাড়ি নির্মাতা, কম্পিউটার চিপ প্রস্তুতকারক ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘বিরল খনিজ পণ্যগুলোর সমস্যা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকা উচিত নয়। তিনি বলেন, নির্ধারিত স্থানে শিগগিরই অর্থনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৈঠক হবে। তিনি বলেন, নেতারা একে অপরের সঙ্গে দেখা করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।

‘কথোপকথনের সময়, রাষ্ট্রপতি শি সদয়ভাবে ফার্স্ট লেডি এবং আমাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং আমি তার উত্তর দিয়েছি। দুটি মহান জাতির প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমরা দুজনেই এটি (সফর) করার অপেক্ষায় আছি,’ লিখেছেন ট্রাম্প।

প্রসঙ্গত, বিরল খনিজের বিশ্ববাজারে চীনের আধিপত্য রয়েছে, এবং বেইজিং একে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর প্রভাব খাটানোর হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করছে, চীন বাণিজ্যযুদ্ধ বিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে—যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের প্রবাহ সীমিত করেছে। বিরল এই খনিজগুলো গাড়ি নির্মাতা ও সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে ব্যবহৃত হয়। শক্তিশালী শিল্পচৌম্বক তৈরিতে ব্যবহৃত এই খনিজের ঘাটতি হলে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কারখানা কার্যত অচল হয়েও পড়তে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত