বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আরিফ মোস্তফা দায়িত্ব পালনকালে কম দামের যন্ত্র বেশি দামে কেনা, টেন্ডারবাজি ও ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে নিজের এবং স্ত্রী তাহেরা মোস্তফার নামে ঢাকা ও খুলনায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ কিনেছেন। বিদেশেও বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন তিনি। তার ঢাকার গুলশান ও ধানম-িতে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনা এবং খুলনায় ১৫০ একর জমি কেনার তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা হয়েছে। দুদক এসব অবৈধ সম্পদের বিষয়ে কাজ করছে।
সূত্রমতে, চলতি বছরের ২৫ মার্চ পাউবোর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আরিফ মোস্তফার অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানে নামে দুদক। সংস্থাটির উপপরিচালক মুহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের একটি টিম অভিযোগটির অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ১৬ মার্চ প্রকৌশলী আরিফ মোস্তফা, তার স্ত্রী তাহেরা মোস্তফা ও তাদের দুই সন্তানের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের ব্যাপারে ব্যাংক, বীমা, সিটি করপোরেশন, ভূমি অফিস, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষসহ ৬০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র দুদকে পাঠানো শুরু হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, আরিফ মোস্তফা পাউবোর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালে কম দামের যন্ত্র বেশি দামে কিনে ও তার আগে মান পরীক্ষার নামে বিদেশ ভ্রমণ করে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অর্থ দিয়ে স্ত্রী তাহেরা মোস্তফার নামে খুলনার বিভিন্ন মৌজায় শত শত বিঘা জমি কিনেছেন তিনি। খুলনা শহরে একাধিক বাড়ি করেছেন, বিভিন্ন কোম্পানিতে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করে শেয়ার কিনেছেন তিনি। ওইসব কোম্পানির মাধ্যমে নিজ কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের টেন্ডারে অংশ নিয়ে অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কাজ বাগিয়ে নিয়ে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আরিফ মোস্তফা খুলনা শহরে ছয়তলা বাড়ি, ঢাকার গুলশান-২ এবং ধানম-িতে ফ্ল্যাট কিনেছেন। এ ছাড়া তার নিজ এলাকায় ৫০ বিঘা জমি, স্ত্রীর নামে খুলনায় ১০০ বিঘা জমি, স্ত্রী ও ভাই-বোনদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর করেছেন তিনি। বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ কেনাসহ তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান চলাকালে পাউবোর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আরিফ মোস্তফা, তার স্ত্রী তাহেরা মোস্তফা, মেয়ে সুবর্ণা মোস্তফা ও ছেলে তাইফ মোস্তফা যেন বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারেন, সেজন্য তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ মে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
আদালতে যে আবেদন করা হয়েছে, তাতে উল্লেখ করা হয়, আরিফ মোস্তফার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অর্থনৈতিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে দুদকের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। আরিফ মোস্তাফা অবৈধভাবে অর্জিত এসব সম্পত্তি হস্তান্তর করে সপরিবারে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এজন্য তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন।