'ক্রিকেটকে ব্যবহার করে দেশের পর্যটন খাতকে আরও উন্নত করাই প্রধান লক্ষ্য'

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৫, ০৬:৫৩ পিএম

ক্রিকেটকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে আরও উন্নত করাই আমার প্রধান লক্ষ্য, বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রেসিডেন্টস অ্যাডভাইজার কমিটির নতুন উপদেষ্টা মো. শাখাওয়াত হোসেন।

তিনি মনে করেন, ক্রিকেট বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। যেহেতু আমাদের দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় বড় টুর্নামেন্ট হয়, তাই এই খাত থেকে আমরা আরও বেশি বিদেশি টাকা আয় করতে পারি এবং নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারি। এই ভাবনা থেকেই আমি কাজ করছি যেন ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প আরও এগিয়ে যায়।

শাখাওয়াত হোসেন আরও বলেছেন, বিদেশি পর্যটকদের জন্য উপযোগী যেসব এলাকা, যেমন—কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী ও খুলনা—এইসব শহরে যখন খেলা হবে, তখন সেখানকার দর্শনীয় স্থানগুলোকে ট্যুর প্যাকেজের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। এতে করে একদিকে দেশের ভেতরের আয় বাড়বে, অন্যদিকে ক্রিকেট দেখতে আসা বিদেশি পর্যটকরা আমাদের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কেও জানতে পারবে। এর মাধ্যমে খেলার পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও অতীত সম্পর্কে পুরো বিশ্ব জানতে পারবে।

তিনি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে তার পরিকল্পনা তুলে ধরার কথা জানিয়ে বলেছেন, ক্রিকেটকে ঘিরে দেশের পর্যটন খাতকে আরও উন্নত করাই তার মূল উদ্দেশ্য।

দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হসপিটালিটি ও পর্যটন শিল্পে শাখাওয়াত হোসেনের রয়েছে গভীর অভিজ্ঞতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনায় পিএইচডি করছেন শাখাওয়াত হোসেন। একই বিষয়ে তার এমফিল ও এমবিএ ডিগ্রিও রয়েছে। একজন শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং গবেষক হিসেবে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

শাখাওয়াত হোসেন শুধু একজন সফল কর্পোরেট ব্যক্তিত্বই নন, তিনি নিজ জন্মস্থান ভোলাতেও ক্রিকেটের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। তার উদ্যোগে দুটি সফল বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশন (বিহা) ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজিত হয়েছে, যেখানে ৫১টি হোটেল থেকে ২০টি প্রধান হোটেল অংশ নেয়। এছাড়াও বাংলাদেশ হাউসকিপার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে তিনি নিয়মিত একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজন করছেন।

দেশের জিডিপিতে পর্যটন খাতের বর্তমান অবদান প্রায় ৪% (৩.৯৮%)। শাখাওয়াত হোসেন এই অবদানকে আরও বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। তার মতে, অলিম্পিক বা ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া ইভেন্টগুলো যেমন আয়োজক দেশের জীবনযাত্রায় দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, তেমনি ক্রিকেট ট্যুরিজমও বাংলাদেশের জন্য একই সুযোগ তৈরি করতে পারে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত