মহাকাশ গবেষণায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (জেডব্লিউএসটি)। এই টেলিস্কোপ প্রথমবারের মতো একটি এক্সোপ্ল্যানেট (সূর্য নয়, অন্য কোনো তারা ঘিরে ঘূর্ণায়মান গ্রহ) আবিষ্কার করল। নতুন এ গ্রহটির নাম দেওয়া হয়েছে TWA 7b।
গ্রহটির বিশেষত্ব হলো, এর ভর অত্যন্ত কম—শুধুমাত্র বৃহস্পতি গ্রহের ৩০ শতাংশের সমান। পৃথিবী থেকে এটি ১১১ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে এবং এটি একটি অল্প বয়সী তারা CE Antilae-কে ঘিরে ঘুরছে। কয়েক মিলিয়ন বছর বয়সী এই তারাটির চারপাশে রয়েছে ধুলোময় এক ধরনের ডিস্ক, যেটি পৃথিবী থেকে সরাসরি দেখা যায়।
এই আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের শক্তিশালী ইনফ্রারেড সেন্সর MIRI (Mid-Infrared Instrument) এর মাধ্যমে। তরুণ ও স্বল্প ভরের গ্রহগুলো যে তাপ নির্গত করে, তা শনাক্ত করেই গ্রহটির অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
এক্ষেত্রে সাহায্য করেছে MIRI-তে থাকা করোনাগ্রাফ নামের একটি বিশেষ যন্ত্র, যা তারা থেকে আসা তীব্র আলোকে বাধা দিয়ে গ্রহের ক্ষীণ আলো আলাদাভাবে দেখতে দেয়। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের গ্রহ খোঁজার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
জেমস ওয়েবের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, CE Antilae তারাটিকে ঘিরে থাকা ধুলোময় ডিস্কটি তিনটি আলাদা বলয়ে বিভক্ত। গবেষকদের ধারণা, এই বলয়গুলোর মাঝে যে ফাঁকা জায়গা বা সরু বলয় রয়েছে, তা TWA 7b-এর মহাকর্ষীয় টানের কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে আগে তৈরি করা মহাকাশ মডেল ও সিমুলেশনের সত্যতাও মিলেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রহটির উপস্থিতি ওই বলয়ের গঠন ব্যাখ্যা করে, এবং এটি মহাকাশে গ্রহ তৈরির প্রক্রিয়া বোঝার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
TWA 7b আবিষ্কার জেমস ওয়েব টেলিস্কোপকে গ্রহ অনুসন্ধানে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তুলনামূলকভাবে হালকা ও দুর্লভ এক্সোপ্ল্যানেট সরাসরি চিত্রায়ণ করে টেলিস্কোপটি যে সাফল্য পেয়েছে, তা ভবিষ্যতের গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
প্রাথমিক মহাবিশ্বের রঙিন ছবি তুলে আনল জেমস ওয়েব
গন্তব্যে পৌঁছাল জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ