প্রাইভেট বিচ আর ঘরোয়া পরিবেশ—ম্যানচেস্টার সিটির ‘হোম অ্যাওয়ে ফ্রম হোম’

আপডেট : ৩০ জুন ২০২৫, ০৫:০৮ পিএম

প্রাইভেট বিচ, বিলাসবহুল রিসোর্ট, পরিবারের সান্নিধ্য—এই সবকিছু যেন একসঙ্গে পেয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। মাঠে যেমন দাপট, তেমনি মাঠের বাইরেও পুরো দল উপভোগ করছে ক্লাব বিশ্বকাপের আমেজ। তবে মধুচন্দ্রিমার দিন ফুরাতে চলেছে—নকআউটে এখন ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই।

আগামী মঙ্গলবার (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে) তারা মুখোমুখি হবে সৌদি ক্লাব আল-হিলালের, যেখানে মাঠের বাইরে সিটির ক্যাম্প যেন প্রশান্তির নাম।

১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেই তারা ঘাঁটি গেড়েছে ফ্লোরিডার সাউথইস্ট কোস্টে অবস্থিত লাক্সারি বোকা রেটন রিসোর্ট-এ। রিসোর্টটির প্রতি রাতের ভাড়া ৭১৫ ডলার! (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮২ হাজার টাকা)। এখানেই খেলোয়াড়দের পরিবার থেকেছে তাদের সঙ্গে, যা গোটা দলকে দিয়েছে একধরনের ‘ঘরোয়া’ অনুভব।

নতুন অধিনায়ক বার্নার্ডো সিলভা বললেন, ‘হোটেলটা দারুণ। আমরা এখানে একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছি, খাবার খাচ্ছি, সমুদ্রের ধারে বসে গল্প করছি। এটা আমাদের একসঙ্গে বাঁচতে শিখিয়েছে।’

গার্দিওলার ‘ফ্রি হ্যান্ড’!

কঠোর, নিয়ন্ত্রিত, ঘড়ি ধরে ট্রেনিং—এই তো পরিচিত গার্দিওলা! কিন্তু এবার ক্লাব বিশ্বকাপে তিনি ভিন্ন রূপে। খেলোয়াড়দের দিয়েছেন একেবারে ‘ফ্রি হ্যান্ড’। চাইলেই কেউ যেতে পারছে গল্ফ খেলতে, পুলে সময় কাটাতে বা পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে।

গার্দিওলা বললেন, ‘সিজনের শেষটা আমাদের জন্য খুব আবেগপূর্ণ ছিল। তাই এবার আমি চেয়েছি, খেলোয়াড়রা স্বস্তিতে থাকুক। টুর্নামেন্টটা একটা নতুন অধ্যায়। সবার মন ফুরফুরে থাকলে মাঠেও সেটা দেখা যাবে।’

এমনকি কোচ নিজেও খেলোয়াড়দের সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে ফুটবল খেলেছেন! টিম স্পিরিট যেন ফিরে এসেছে পুরোনো সেই ট্রেবল জয়ের দিনের মতো।

দলবদলে সিটির চার নতুন মুখ রায়ান আইত-নুরি, রায়ান চেরকি, তিজানি রেইন্ডার্স এবং নতুন সহকারী কোচ পেপ লাইজন্ডার্স—সবার সঙ্গেই ভালোভাবে মিশে গেছেন। সেন্টার-ব্যাক নাথান আকে জানালেন, ‘নতুনরা এলে যেমন শক্তি বাড়ে, তেমনি ড্রেসিং রুমেও আসে একধরনের প্রাণ। তারা দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে।’

যেখানে সময় কাটছে ম্যানসিটির ফুটবলারদের।

চেরকি নাকি দলে যোগ দিয়েই একটি ফ্রেঞ্চ র‍্যাপ গান গেয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কেবল পায়ের জাদুতেই নন, আনন্দ ছড়াতেও পারদর্শী।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে তিন জয়, ১৩ গোল। ওয়াইদাদ এসি, আল আইন ও ইউভেন্তুসকে উড়িয়ে নকআউটে পৌঁছেছে সিটি। ফলে তারা এড়িয়েছে পিএসজি, রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো জায়ান্টদের।

অপ্টার মতে, সিটি এখন দ্বিতীয় ফেভারিট—শীর্ষে রয়েছে পিএসজি। যদি উভয় দল ফাইনালে ওঠে, তাহলে দেখা যাবে সাবেক বার্সা সতীর্থ গার্দিওলা ও লুইস এনরিকে মুখোমুখি।

ক্লাবের সিইও ফেরান সোরিয়ানো জানালেন, “সিটি যেকোনো টুর্নামেন্টে নামে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে। এই ক্লাবের মানসিকতা সেটাই।”

ফ্লোরিডার রাস্তায় লাগানো বিশাল বিলবোর্ডেও লেখা:“Win or go home!”

আর সিটির কাছে এ বার্তাটাই যেন সবচেয়ে স্পষ্ট—এই যাত্রায় কিছু জিতেই ফিরতে হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত