আগস্টে ভারতের বাংলাদেশ সফরে সায় নেই দিল্লির

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৫, ০১:৪৩ পিএম

বাংলাদেশ সফরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের আসা এখন অনিশ্চিত। আগামী ১৩ আগস্ট থেকে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টির সিরিজ খেলতে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখার কথা ছিল রোহিত শর্মাদের। সেই সূচি প্রকাশ পেয়েছিল দুই মাস আগেই। তবে দিল্লির রাজনৈতিক মনোভাব বদলে দেওয়ায় সফরটি এখন প্রশ্নের মুখে।

বিবিসি বাংলার বরাতে জানা গেছে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিসিসিআইকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়নি। একাধিক শীর্ষ সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে তারা জানায়, ভারত-বাংলাদেশের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্কের শীতলতায় ভারত সরকার এই সফরের পক্ষে নয়। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, এখনকার রাজনৈতিক আবহে এই সফর কোনো ইতিবাচক বার্তা দেবে না বলেই মনে করছে দিল্লি।

বিসিসিআই চাইলে এই সফরে কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশ সফর সম্ভব নয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া গত মাসেই জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক এক বিতর্কিত মন্তব্য—যা ভারতের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর মতো ব্যাখ্যা হয়েছে—তা সফরের সম্ভাবনাকে ক্ষীণ করে তুলেছে।

সেই মন্তব্য এসেছিল বাংলাদেশের এক সাবেক সামরিক কর্মকর্তার পক্ষ থেকে, যিনি ভারত-পাকিস্তান প্রসঙ্গে স্পর্শকাতর মন্তব্য করেছিলেন। যদিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তখন পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, ঐ মন্তব্যের সঙ্গে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এ প্রসঙ্গে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, “আমরা আগের সূচি অনুযায়ী সিরিজ আয়োজন করতে প্রস্তুত। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখনো সবুজ সংকেত মেলেনি।” তিনি আরও বলেন, “ভারত যদি আগস্টে না আসে, তবে পরবর্তী কোনো ফাঁকা সময়ে সিরিজ আয়োজনের চেষ্টা করা হবে।”

অক্টোবর থেকে বাংলাদেশের সূচি এতটাই ঠাসা যে, ভারত যদি আগস্টেই না আসে, তাহলে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগেই নতুন করে সিরিজ আয়োজন প্রায় অসম্ভব। সেপ্টেম্বরে সম্ভাব্য এশিয়া কাপ, অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর, নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের আগমন এবং বিপিএল ও বিশ্বকাপ মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ক্যালেন্ডার এখন বেশ জটিল।

এদিকে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকলেও মূল বাধা এখন রাজনৈতিক অনুমোদন। বিসিসিআই এখন কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।

এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের ক্রিকেটীয় কূটনীতির ওপর এর কী প্রভাব পড়বে। মাঠের বাইরের আবহ যদি এইভাবেই ক্রিকেটকে প্রভাবিত করে, তাহলে আগামী দিনে আরও বড় জটিলতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত