দেশে বছরে অসংক্রামক ব্যাধিতে মারা যাওয়া ৬৮ শতাংশ মানুষের মধ্যে ৫১ শতাংশের মৃত্যর প্রধান কারণ তামাক বলে জানিয়েছেন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ডা. আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
তিনি বলেন, ধূমপানের ফলে হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোকসহ নানা রোগ হয়। তামাক ব্যবহারের কারণে ৩৫ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যুহারও আশঙ্কাজনকভাবে বেশি। তাই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাশের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি জরুরি।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘তরুণদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত শক্তিশালী করা প্রয়োজন’ শীর্ষক তামাক বিরোধী যুব সমাবেশে এই তথ্য জানান।
ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পূয়র-ডব়্প আয়োজিত সমাবেশে ঢাকা আহছানিয়া মিশন, নারী মৈত্রী এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অংশ নেয়। সমাবেশে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. খালেদা ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে ১৫ বছর ও তদুর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫ শতাংশ। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিদিন ৪৪২ জন মানুষ মারা যান, বছরে পঙ্গুত্ববরণ করে প্রায় ৪ লাখ মানুষ এবং পরোক্ষ ধূমপানে শিকার ৪৩ শতাংশ মানুষ। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী দ্রুত পাসের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে তামাকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করতেই হবে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডব়্পের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর জেবা আফরোজা। প্রবন্ধে তামাক নিয়ন্ত্রণের জন্য ডব্লিউএইচও ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোবাকো কন্ট্রোল-এফসিটিসির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রণীত খসড়ার সংশোধনীগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ৬টি প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি। সেগুলো হলো- অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য সকল প্রকার পাবলিক প্লেস এবং পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান বিলুপ্ত করা, বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকপণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, ই-সিগারেট এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কিশোর ও তরুণদের রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তামাকপণ্যের সকল প্রকার খুচরা ও খোলা বিক্রয় বন্ধ করা এবং সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা।
নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তার ডলি বলেন, সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিশুদের উপর করা এক স্যালাইভা পরীক্ষায় ৯৫ শতাংশ শিশুর শরীরে উচ্চামাত্রায় নিকোটিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তরুণদের ধূমপান থেকে মুক্ত রাখতে তামাক কোম্পানি কূটকৌশলের মাধ্যমে যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বের হতে না পারে—এজন্য আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।
সমাবেশে উপস্থিত তরুণরা বলেন, দেশের ৪৯ শতাংশ যুবসমাজ যদি তামাকের ক্ষতিকর ছোবল থেকে রক্ষা না পায়, তাহলে দেশের ভবিষ্যতও অনিবার্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। খুচরা সিগারেট বিক্রি বন্ধ করা গেলে তরুণদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে। কারণ তামাক কোম্পানিগুলোর মূল লক্ষ্যই হলো তরুণ প্রজন্ম—তাদের একবার এই চক্রে ফেলে দিতে পারলেই নিকোটিনের আসক্তিতে তারা দীর্ঘমেয়াদে বন্দি হয়ে পড়ে।
সমাবেশে তামাকবিরোধী সংগঠনদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞা, বিএনটিটিপি, বিসিসিপি, টিসিআরসি, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, নাটাব, এইড ফাউন্ডেশন, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি, প্রত্যাশা, পিপিআরসি, মানস, তাবিনাজ, ডাস এবং বিটিসিএ এর প্রতিনিধিরা।
