দক্ষিণ আফ্রিকাকে চ্যাম্পিয়ন করে 'মাসের সেরা' মার্করাম

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৫, ০৯:১০ পিএম

লর্ডসে দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন এইডেন মার্করাম। আর ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে রেখেই এক অনন্য ধারায় নিজের দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন হেইলি ম্যাথিউস। স্বভাবতই, জুন মাসের আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ পুরস্কার উঠল এই দুই ক্রিকেটারের হাতে।

৩০ বছর বয়সী ওপেনার মার্করাম পেয়েছেন পুরুষ বিভাগের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন একই দলের ক্যাগিসো রাবাদা ও শ্রীলঙ্কার ওপেনার পাথুম নিসাঙ্কা। তবে ফাইনালের মঞ্চে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সই তাকে এগিয়ে দেয়—অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০৭ বলে ১৩৬ রানের অনবদ্য ইনিংস, সঙ্গে বাভুমার সঙ্গে ১৪৭ রানের জুটি, আর শেষ পর্যন্ত ২৮২ রানের টার্গেট তাড়া করে পাঁচ উইকেটে জয়।

সেই জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকার ড্রেসিংরুমে উল্লাস ছিল, ইতিহাসের এক দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানেও ছিল কিছুটা স্তব্ধতা। শেষবার ১৯৯৮ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জিতেছিল দলটি, এরপর এতটা মর্যাদার কোনো শিরোপা তাদের হাতে ওঠেনি। এবার উঠল, আর তার পেছনে ছিলেন এইডেন মার্করাম।

পুরস্কার হাতে নিয়ে মার্করাম বলছিলেন, ‘এই স্বীকৃতি পাওয়া অবশ্যই সম্মানের। তবে এটা আমার একার অর্জন নয়—পুরো দলের সম্মিলিত প্রয়াস ছিল এই জয়। কেজি (রাবাদা) আর টেম্বা (বাভুমা)—দুজনেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। লর্ডসে জেতা আমাদের জন্য ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত।’

অন্যদিকে নারীদের ক্রিকেটে চারবার প্লেয়ার অব দ্য মান্থ হয়ে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশলি গার্ডনারের পাশে নাম লেখালেন হেইলি ম্যাথিউস। এর আগে তিনি জিতেছিলেন ২০২১ সালের নভেম্বর, ২০২৩ সালের অক্টোবর এবং ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে। এবার আবারও পুরস্কার ঘরে তুললেন, এই মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে দারুণ পারফর্ম করে।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে করেন ১০৪ রান, যার মধ্যে তৃতীয় ম্যাচে ছিল একটি হাফসেঞ্চুরি। বল হাতেও নিয়েছেন চার উইকেট। এরপর টি-টোয়েন্টি সিরিজে ছিলেন দুর্দান্ত—দুই ফিফটি, মোট ১৪৭ রান এবং দুটি উইকেট, সঙ্গে সিরিজসেরার মুকুট।

ম্যাথিউস জানালেন, ‘এই পুরস্কার পাওয়া দারুণ সম্মানজনক। সাম্প্রতিক সময়ে নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি খুশি, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলের জয়ে অবদান রাখতে পারা। এই স্বীকৃতি অবশ্যই ভালোলাগার, কিন্তু আমি ভবিষ্যতের দিকেই তাকিয়ে আছি—এখনো অনেক কিছু অর্জনের বাকি আছে।’

এই দুই তারকার স্বীকৃতি এসেছে ভক্তদের ভোট এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ প্যানেলের রায়ে। আইসিসির ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত বিশ্বব্যাপী সমর্থকরাই প্রতি মাসে এই ভোটে অংশ নিয়ে নির্ধারণ করেন মাসসেরা পুরষ ও নারী ক্রিকেটার।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত