শেষ হলো দুদিনের ‘ডিসকোর্স বাই দ্য শোর: আর্কিটেক্টস সামিট’

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৫, ০৯:৪৬ পিএম

কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘ডিসকোর্স বাই দ্য শোর: আর্কিটেক্ট সামিট’ শীর্ষক দুই দিনের স্থপতি সম্মেলন। সম্মেলনে দেশের ৬০ জন স্থপতি অংশ নেন। গত ১১ ও ১২ জুলাই কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের প্যাঁচার দ্বীপে অবস্থিত মারমেইড বিচ রিসোর্টে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে স্থপতিরা ইকোট্যুরিজম, জলবায়ু সহনশীল পর্যটন এবং এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ তৈরিতে স্থাপত্যের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

স্থপতি মেরিনা তাবাসসুমের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই সম্মেলনে মূলত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টেকসই পর্যটন এবং জলবায়ু-সহনশীল ডিজাইন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সম্মেলনটি ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্ব এবং এর ভূমিকা তুলে ধরে, যা পরিবেশ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় সহায়তা করে।

সম্মেলনের প্রথম দিন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম বলেন, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক পরিবেশ, যা ইতিমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে, ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং পর্যটকদের জন্য নতুন কোনও মানসম্পন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি হচ্ছে না।

এই স্থপতি ইকো-ট্যুরিজমএর গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা স্থানীয় সম্প্রদায়ের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশ এবং ঐতিহ্য রক্ষায় সাহায্য করে।

কক্সবাজারের মাস্টার প্ল্যান তৈরির দায়িত্বরত স্থপতি এহসান খান কিভাবে কক্সবাজারের নির্মাণের সাথে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা যায় এবং স্থাপত্যের মাধ্যমে কক্সবাজারের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভব- তা নিয়ে আলোচনা করেন। 

সম্মেলনে ‘ইকো-ট্যুরিজম এবং স্থাপত্য চর্চায় টেকসইতা’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম, স্থপতি খন্দকার হাসিবুল কবির, স্থপতি এহসান খান প্রমুখ। সেখানে সাতজন স্থপতি তাদের প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।  তারপর একটি গাইডেড সানসেট মেডিটেশন হয়, যা প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে নকশা সচেতনতা গঠনে সহায়তা করে।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন আরও দশজন স্থপতি তাদের কাজ উপস্থাপন করেন। সম্মেলনটি শেষ হয় একটি ওপেন-ফ্লোর প্যানেল আলোচনার মাধ্যমে। এটি পরিচালনা করেন স্থপতি নাহাস আহমেদ খালিল। সমাপনী বক্তব্য রাখেন স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম।
সম্মেলনের একটি আকর্ষণীয় অংশ ছিল বাংলাদেশের বিখ্যাত স্থপতিদের আধুনিক কাজের প্রদর্শনী, যা দেশের স্থাপত্য দৃশ্যের জন্য উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

মারমেইড বিচ রিসোর্টের চেয়ারম্যান স্থপতি এ এম জিয়া উদ্দিন খান পাবলো বলেন, আমরা স্থপতিরা যেমন শুধু বর্তমানের জন্য নয়, বরং একটি টেকসই ভবিষ্যতের জন্য নকশা করার দায়িত্বে আছি; তেমনি এই সম্মেলন একটি মুহূর্ত, যেখানে স্থাপত্যের উদ্ভাবনী চিন্তা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ একসঙ্গে একীভূত হয়েছে।

মারমেইড বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিসুল হক চৌধুরী সোহাগ বলেন, আমরা খুব খুশি যে, এই সম্মেলনে আর্কিটেকচারের সকল মাস্টারমাইন্ডরা অংশ নিয়েছেন এবং তাদের চিন্তাভাবনা শেয়ার করেছেন, যা কক্সবাজার এবং আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় ভূমিকা রাখবে।”

সম্মেলনের সহ আয়োজনে ছিলেন স্থপতি সাইকা ইকবাল মেঘনা, স্থপতি দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া, স্থপতি শুভ্র শোভন চৌধুরী, স্থপতি রাশেদ হাসান চৌধুরী, স্থপতি খন্দকার আসিফুজ্জামান রাজন এবং স্থপতি তাবাসসুম জারিন তিথি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত