সিরিয়ায় দ্রুজ ও বেদুইনদের সংঘাতে নিহত ৮৯, জানাজায়ও হামলা

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৫, ১১:৪৬ পিএম

গত ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুতের পর আহমাদ আল শারার নেতৃত্বে ইসলামপন্থী সরকার গঠন হলেও সিরিয়ায় শান্তি ফেরানো কঠিন হয়ে উঠেছে। দেশটির সুইদা প্রদেশে দ্রুজ ও বেদুইনদের মধ্যে ভয়াবহ সহিংসতায় পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। এ পর্যন্ত ৮৯ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। সহিংসতা ঠেকাতে ইসরায়েল কয়েকটি ট্যাংকে হামলার কথা জানিয়েছে।

কীভাবে শুরু হলো সংঘর্ষ?

রবিবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে দ্রুজ জনগোষ্ঠীর এক সবজি বিক্রেতাকে অপহরণ করে বেদুইন বন্দুকধারীরা। এর প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা অপহরণ করে দ্রুজরা। যদিও কিছু বন্দী পরবর্তীতে মুক্তি পায়, তবে এ ঘটনার জেরে সহিংসতা থামেনি। সোমবার সুইদা শহরের বাইরে একাধিক গ্রামে গোলাবর্ষণ হয় এবং এতে বহু মানুষ আহত হন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, আহতদের ভর্তি করা হচ্ছে হাসপাতালে। পশ্চিমাঞ্চলে বেদুইনদের সঙ্গে সংঘর্ষে ও গ্রামাঞ্চলে গোলাবর্ষণে হতাহত বেশি।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা ৫১ বছর বয়সী আবু তাইম বলেন, ‘আমরা আতঙ্কে দিন কাটিয়েছি– এলোপাথারি গোলা পড়ছিল। রাস্তায় যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে গেছে।’

এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুইদার রাস্তাঘাট ফাঁকা, এবং এমনকি জানাজায়ও গুলি ছোড়া হচ্ছে।

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস নিহতের সংখ্যা ৮৯ বলে জানিয়েছে। এদের মধ্যে ৪৬ দ্রুজ, ৪ বেসামরিক নাগরিক, ১৮ বেদুইন যোদ্ধা রয়েছে। আল-ইখবারিয়া টিভিকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, সংঘর্ষে ৬ জন নিরাপত্তা কর্মীও নিহত হয়েছে।

সুইদার উপকণ্ঠে এএফপির একজন সংবাদদাতা দেখেছেন, সশস্ত্র যোদ্ধা, পুলিশ, সাধারণ গাড়ি ও মোটরসাইকেলে যোদ্ধাদের একত্রিত হয়ে ফ্রন্ট লাইনের দিকে যেতে এবং আহতদের দামেস্কের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, সামরিক মোতায়েন, নিরাপদ পথ এবং সংঘর্ষ ‘দ্রুত ও কঠোরভাবে’ দমন করা হবে।

সুইদার তিনজন শীর্ষ ধর্মীয় নেতার একজন শেইখ হিকমত আল-হিজরি বলেন, ‘সাধারণ নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবেশে আমরা আপত্তি জানাই। আমরা আন্তর্জাতিক সুরক্ষা চাই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আনাস খাত্তাব এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লেখেন, ‘সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান না থাকায় সুইদায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। একমাত্র সমাধান হলো এসব প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয় করে নাগরিক শান্তি নিশ্চিত করা।’

ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ

ইসরায়েল বলেছে, সুইদায় কয়েকটি ট্যাংকে হামলা চালিয়েছে তারা, যদিও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। ইসরায়েল আগে থেকেই বলেছিল, সিরিয়ায় দ্রুজ সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজনে হস্তক্ষেপ করবে। এর আগেও মে মাসে দামেস্কের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছিল।

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের আগে দ্রুজ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ লাখ, যাদের বেশিরভাগই থাকে সুইদা প্রদেশে। এছাড়া লেবানন ও ইসরায়েলেও দ্রুজরা বাস করেন।

ইসরায়েলে বর্তমানে ১ লাখ ৫২ হাজার দ্রুজ রয়েছে, যার মধ্যে ২৪ হাজার থাকে ইসরায়েল-অধিকৃত গোলান মালভূমিতে। এদের মাত্র ৫ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত