সাফ ওমেন্স অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার রাতে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনার ট্রেনিং গ্রাউন্ডে স্বাগতিকরা ভুটানকে হারায় ৩-০ ব্যবধানে। দলের অন্যতম স্ট্রাইকার তৃষ্ণা রানী জোড়া গোল করেন। অপর গোলটি আসে বদলী স্বপ্না রানীর পা থেকে। এই টুর্নামেন্টকে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার নিয়েছেন পরীক্ষা-নীরিক্ষার বড় মঞ্চ হিসেবে। এই ম্যাচেও তাই তিনি পরখ করেছেন সাইড বেঞ্চের শিষ্যদের। যদিও ভুটানকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো হারের তেতো স্বাদ দিতে সমস্যা হয়নি বাংলাদেশের।
টানা চার ম্যাচের চারটি জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার সবার ওপরে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার আসরের অন্য ম্যাচে নেপাল ৭-০ গোলে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শিরোপার আশা জিইয়ে রেখেছে। আগামীকাল বাংলাদেশ খেলবে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আর নেপালের প্রতিপক্ষ ভুটান। এই দুই ম্যাচে বড় কোন অঘটন না ঘটলে জিতবে বাংলাদেশ ও নেপাল। তাতে ২১ জুলাই এই দুই দলের ম্যাচটাই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ হয়ে উঠবে।
দু'দিন আগে দুই মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভুটানকে বাংলাদেশ হারিয়েছিল ৪-১ ব্যবধানে। সেই ম্যাচের একাদশটা ছিল অনিয়মিত দিয়ে গড়া। বৃহস্পতিবার সেই একাদশেও দুটি পরিবর্তন আনেন বাটলার। অর্থাৎ ২৩জনের স্কোয়াডের ২২জনকেই খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন বাটলার। আর কোচের দেওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে নতুনরাও নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিয়েছেন। যদিও ফিনিশিংটা ঠিকঠাক হচ্ছিল না স্বাগতিকদের। বারবার সুযোগ নষ্ট করেছেন তৃষ্ণা। শুরুটা ম্যাচের ১৪ মিনিটে। ভুটানের গোলকিপার পেমা বক্সের বাইরে একটি বল বক্সে নিয়ে আয়ত্বে নিতে গিয়ে পারেননি। সেই বল কেড়ে পোস্টের দিকে এগিয়ে যান তৃষ্ণা, তবে শট নিতে দেরি করে ফেলেন। সে সুযোগ ভুটানের ডিফেন্ডার সোনাম চোদেন কর্নারের বিনিময়ে সেই বল ক্লিয়ার করেন।
বাংলাদেশ বল নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও মাঝমাঠের ঠিকঠাক খেলাটা হচ্ছিল না বলেই ২৯ মিনিটে বন্যা খাতুনকে তুলে স্বপ্না রানীকে নামান বাটলার। স্বপ্নার সংযুক্তিতে আক্রমণের গতি বাড়ে বাংলাদেশের। সেই সুফলটা তারা পেয়ে যায় কিছু সময় বাদেই। ৩৩ মিনিটে তৃষ্ণারানী গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন। নিজেদের অর্ধ্ব থেকে স্বপ্না ডিফেন্সচেড়া পাস বাড়ান তৃষ্ণারানীর কাছে। মার্কারকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ধীরে সুস্থে বল জালে জমা করেন বাংলাদেশ স্ট্রাইকার।
বিরতি থেকে ফিরে বাংলাদেশ দলীয় শক্তি বাড়ায় এক সঙ্গে তিনটি পরিবর্তন করে। মাঠে আসেন মুনকি আক্তার, উমেহলা মারমা ও জয়নব বিবি রিতা। তাতে খেলা পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ৬২ মিনিটে অবশ্য পেনাল্টি থেকে গোল বাড়ানোর সহজ সুযোগ নষ্ট করেন স্বপ্না। বক্সের ভেতর তৃষ্ণাকে ফেলে দিয়েছিলেন এক ভুটান ডিফেন্ডার। স্বপ্না অবশ্য বল পোস্টেই রাকতে পারেননি। যদিও চার মিনিট পর ঠিকই দ্বিতীয় গোলের দেখা পায় বাংলাদেশ। বক্সের মুখ থেকে তৃষ্ণার ডান পায়ের মাপা শট জালে জড়ায়। আর ৭৫ মিনিটে দুরপাল্লার শটে ৩-০ করেন স্বপ্না। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে তার নেওয়া শট ক্রসবারে লেগে গোললাইন অতিক্রম করলে গোলের বাঁশি বাজান রেফারি। দুই মিনিট পর হ্যাটট্রিকের ভালো সুযোগ নষ্ট করেন তৃষ্ণা। বাঁ দিক থেকে মুনকির কাটব্যাক আয়ত্বে নিয়ে শট নিতে দেরী করেন তৃষ্ণা। সেউ সুযোগে ভুটানের এ্ক ডিফেন্ডার বল কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন।
নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে সরাসরি লালকার্ড দেখায় তিন ম্যাচের সাসপেনশনে আছেন দলের মূল স্ট্রাইকার সাগরিকা। তার অনুপস্থিতিতে অবশ্য তৃষ্ণা ঠিকই গোল করে এগিয়ে নিচ্ছেন দলকে। যা বাটলারের জন্য ভীষণ স্বস্তির। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে সাগরিকা খেলতে পারবেন নেপালের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তাকে ৫০০ মার্কিন ডলার জরিমানাও গুনতে হয়েছে নেপালের সিমরান রাইয়ের সঙ্গে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়ে। সিমরানকেও একি্ শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে সহজেই হারালো বাংলাদেশের যুবারা
পাকিস্তান সিরিজের জন্য মিরপুরে ১০ লাখ টাকার ‘বাঁশ’