মুক্তিপণ নিয়ে ১৭ রোহিঙ্গা পরিবারকে বাংলাদেশে পাঠাল আরাকান আর্মি

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৫, ১১:২৭ পিএম

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের আরাকান রাজ্যের মংডু শহরের থানা থেকে আটক ১৭টি রোহিঙ্গা পরিবারকে মুক্তি দিয়েছে আরাকান আর্মি। চার মাসের বেশি সময় ধরে আটকে রাখা এসব পরিবারকে মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে পাঠানো হয়।

আটক প্রতি ব্যক্তির জন্য বিশ লাখ কিয়াত (মিয়ানমার মুদ্রা) মুক্তিপণ দিতে হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আরাকান নিউজ এজেন্সি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, মোট আটক সংখ্যা ছিল ৭৮ জন, যার মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ, ৪২ জন নারী ও শিশু ছিল। আটক অবস্থায় তাদেরকে চরম মানবিক সংকটে রাখা হয়—প্রতিদিন মাত্র একবেলা খাবার দেওয়া হতো, কোনো চিকিৎসা সুবিধা ছিল না, যার ফলে ডায়রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যু হয়।

মুক্তিপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি আরাকান নিউজ এজেন্সিকে জানান, মুক্তি পেলেও তাদের নিজ গ্রামে ফিরে যেতে দেওয়া হয়নি। বরং হুমকি দেওয়া হয়েছে, তারা যদি মংডুতে আবার পাওয়া যায়, তবে তাদেরকে ছয় থেকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হবে। তাদেরকে নতুন করে অর্থ প্রদান করতে হবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পঞ্চাশ লাখ এবং শিশুদের জন্য তেইশ লাখ কিয়াত পর্যন্ত দিতে হবে।

স্থানীয়দের মতে, মুক্তিপ্রাপ্তদের হস্তান্তর করা হয় আরাকান আর্মির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চোরাকারবারি নেটওয়ার্কের হাতে, যা “হ্লাইং কন গ্রুপ” নামে পরিচিত। এই গ্রুপ প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য আরও সাত লাখ কিয়াত চোরাচালান ফি আদায় করে, যাতে করে তাদের নাফ নদী পার করে বাংলাদেশে পাঠানো যায়। লাদিয়ার দ্বীপের উপকূলে নৌকা প্রস্তুত অবস্থায় দেখা গেছে সীমান্ত পারাপারের জন্য।

পর্যবেক্ষকদের মতে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক এই নিপীড়নমূলক আচরণ প্রমাণ করে আরাকান আর্মি এখন একটি নতুন দমনমূলক কর্তৃত্বে রূপ নিচ্ছে, যার নীতি পূর্ববর্তী সামরিক সরকারের মতই বৈষম্যমূলক ও দমনমূলক।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আরাকান আর্মি মংডু শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়, যার ফলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর হাজারো মানুষ পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। যদিও পরবর্তীতে কিছু মানুষ ফিরে আসে, তবে রোহিঙ্গাদের বিশেষভাবে গ্রেপ্তার ও জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানো হয়।

আরাকান আর্মি ৮ ডিসেম্বর শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে লাগাতার নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে—মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের ঘরবাড়ি বন্ধ করে দেওয়া, আটক করা, মূল্যবান সম্পদ জব্দ করা, যার ফলে অনেক পরিবার বাস্তুহারা হয়ে পড়েছে।

রোহিঙ্গাদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যা এখন প্রতিটি রোহিঙ্গা গ্রামের প্রবেশ ও প্রস্থান পয়েন্টে স্থাপিত নিরাপত্তা চেকপোস্টের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। পাশাপাশি চলাচলের জন্য বাড়তি ফি আদায় করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত