ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তেহরান শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এজন্য প্রয়োজনে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধেও তারা প্রস্তুত। এছাড়া চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরান তেমন আশাবাদী নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার (২২ জুলাই) আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন পেজেশকিয়ান। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশ ও ইসরাইলের উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই এ সাক্ষাৎকার দেন। এটি ছিল ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর তার প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকার।
গত ১৩ জুন ইসরাইল ইরানের একাধিক পরমাণু স্থাপনা ও বেসামরিক স্থানে হামলা চালায়। পাল্টা হামলায় নামে ইরান। পরে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলায় যোগ দেয়। ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এরপর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে তেমন ক্ষতি হয়নি।
পশ্চিমা দেশগুলো এখন ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার কথা বলছে। তারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচির স্থায়ী সমাধান চায় এবং নিশ্চিত করতে চায় যে ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। অন্যদিকে ইসরাইলি নেতারা বলছেন, ইরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যেতে দেয়া হবে না এবং নতুন যুদ্ধের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ফের যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে। এর জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান আন্তর্জাতিক আইন মেনে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। যারা মনে করছে আমাদের কর্মসূচি শেষ হয়ে গেছে, তারা ভুল করছে। আমাদের সক্ষমতা শুধু স্থাপনায় নয়, বিজ্ঞানীদের মেধায় নিহিত।
তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের কোনো নতুন হামলার জন্য আমরা প্রস্তুত। আমাদের বাহিনী ইসরাইলের গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইরান তেমন আশাবাদী নয় বলে জানান পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, আমরা এ নিয়ে বেশি আশা করছি না। যে কোনো পরিস্থিতির জন্য আমরা প্রস্তুত।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসরাইল আমাদের ব্যাপক ক্ষতি করেছে, আমরাও তাদের ক্ষতি করেছি। তারা আমাদের ওপর শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে, আমরাও তাদের গভীরে আঘাত হেনেছি। কিন্তু তারা তাদের ক্ষতি গোপন রাখছে।
২৪ জুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগে ইসরাইলের হামলায় ইরানে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। অন্যদিকে ইরানের হামলায় ইসরাইলে ২৮ জন নিহত হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, আমরা পরমাণু অস্ত্র চাই না। এটি আমাদের রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও নৈতিক অবস্থান। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে কঠোর পরিদর্শনের পরেও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের প্রমাণই পেয়েছে।
নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনার ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যেকোনো আলোচনা হতে হবে সমতার ভিত্তিতে এবং আমাদের শান্তিপূর্ণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে।
