ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দেওয়া হয়েছে একই রোগের পরীক্ষায় দুই ধরনের রিপোর্ট। এতে রোগীর সঠিক চিকিৎসা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবক।
জানা গেছে, উপজেলার চতুল ইউনিয়নের হাসামদিয়া গ্রামের জাহিদুল বেগের আড়াই বছরের শিশু জিহাদের প্রস্রাবজনিত সমস্যা। গত ১৭ জুলাই তাকে ডা. মোহাম্মদ মফিজউদ্দিনের কাছে নেয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শিশু জিহাদের রোগ নির্ণয়ে কিডনি টেস্ট (সেরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা) দেন।
শিশুর বাবা জাহিদুল বেগ ওই পরীক্ষার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মডার্ন ল্যাবরেটরি নামের একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। ওই রিপোর্টে সেরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা উল্লেখ করা হয় ২.৩ মিলিগ্রাম। রক্তে সেরাম ক্রিয়েটিনিনের স্বাভাবিক মাত্রা ০.৬ থেকে ১.৩ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার হয়ে থাকে।
আড়াই বছরের শিশুর সেরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ২.৩ মিলিগ্রাম হওয়ায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে কর্মরত অধ্যাপক ডা. এসি পালের কাছে পাঠান। সেখানে চিকিৎসক ওই টেস্ট আবার দেন। তবে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে করা টেস্টে সেরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা দেখায় ০.৩ মিলিগ্রাম হয় যা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু দুই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দুই রকম রিপোর্টের কারণে রোগীর বাবাসহ সংশ্লিষ্টরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।
জিহাদের দাদী জাবেদা বেগম বলেন, মডার্ন ল্যাবরেটরি থেকে করা রিপোর্ট দেখে ডা. মফিজ উদ্দিন বলেন বাচ্চার কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে, তাকে দ্রুত ফরিদপুর নিয়ে যান। এ কথা শুনে পরিবারের সকলেরই কান্নাকাটি শুরু হয়ে যায়। ওই দিনই ফরিদপুর গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে নতুন করে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে রিপোর্টে আসে কিডনিতে কোন সমস্যা নেই, প্রস্রাবে একটু সমস্যা আছে।
জানতে চাইলে মডার্ন ল্যাবরেটরির স্বত্বাধিকারী জিয়া বলেন, আমাদের রিপোর্ট ভুয়া নয়। তবে পরীক্ষায় কম-বেশি হতে পারে। এ সময় আলফাডাঙ্গায় আছেন বলে জানান।
ডা. মোহাম্মদ মফিজউদ্দিন বলেন, আমরা চাই ভালো মানের রিপোর্ট। যদি ভালো রিপোর্ট না হয় তবে আমাদের রোগীদের যথাযথ সেবা দিতে সমস্যা হয়। ভুল রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে ডিসিশন নিতে হয়। এতে করে রোগীরা ভুক্তভোগী হয়।
বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদ বলেন, একই দিনে দুটি পরীক্ষা করা হয়েছে। মডার্ন ল্যাবরেটরির রিপোর্টে আসছে ২.৩ আর ফরিদপুরের রিপোর্টে আসছে ০.৩। একই তারিখের রিপোর্টে এত পার্থক্য হওয়া উচিত না।
