হারের পর গ্যালারিতে সমর্থকের সঙ্গে বচসায় জড়ালেন নেইমার

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৫, ১২:৪২ পিএম

ভিলা বেলমিরোতে বুধবার রাতে এক অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটালেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। প্রিয় ক্লাব সান্তোসের হারের পর মাঠের গ্যালারিতে থাকা এক সমর্থকের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

ব্রাসিলেইরোর ১৬তম রাউন্ডে ইন্টারনাসিওনালের বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে যায় সান্তোস। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই গ্যালারির নিচের দিকে এগিয়ে যান নেইমার। সেখানে উপস্থিত এক সান্তোস সমর্থকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন এই প্যারিস সেইন্ট জার্মেই ও আল-হিলাল তারকা।

ম্যাচ সম্প্রচারের সময়ই দেখা যায়, দ্বিতীয়ার্ধে একই দিকে ইঙ্গিত করে কিছু বলছেন নেইমার। খেলা শেষের পর সেই দিকেই যান তিনি এবং তখনই সমর্থকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আগেই এগিয়ে আসেন সান্তোসের গোলরক্ষক জোয়াও পাওলো। তিনিই নেইমারকে সরিয়ে নিয়ে যান এবং বিষয়টি থামিয়ে দেন।

চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা নেইমার বর্তমানে খেলছেন না, তবে নিজ ক্লাব সান্তোসের প্রতি ভালোবাসা বরাবরই প্রকাশ করে এসেছেন তিনি। যদিও এমন প্রকাশে এতটা তিক্ততা বিরল, বিশেষ করে নিজ ক্লাবের সমর্থকদের সঙ্গে সরাসরি বচসা।

সামাজিক মাধ্যমে ইতোমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সেই ঘটনার ভিডিও। সান্তোস সমর্থকদের একটি অংশ এই ঘটনার সমালোচনা করলেও, অনেকে নেইমারের আবেগকেও বুঝতে চেয়েছেন।

নেইমারের গোল বাতিল 

ভিলা বেলমিরোতে প্রথমার্ধটা ছিল জমজমাট। ম্যাচের একেবারে প্রথম মিনিটেই রোলহেইসার বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়ে গোলরক্ষক রোচেতকে ভয় পাইয়ে দেন। সান্তোস ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় ডেইভিড ওয়াশিংটনের মাধ্যমে। কিন্তু তিনি দ্বিধায় ভোগেন—না তিনি শট নেন, না নেইমারকে পাস দেন—ফলে দারুণ এক সুযোগ নষ্ট হয়। ঠিক তার পরের মিনিটেই, অর্থাৎ ৮তম মিনিটে, কনট্রা অ্যাটাক থেকে ইন্টারনাসিওনাল গোল করে এগিয়ে যায়: কার্বোনেরো বল পেয়ে এগিয়ে যান, এস্কোবার ও ব্রাজাওকে কাটিয়ে সহজেই বল জালে পাঠান।

পিছিয়ে পড়ার পর সান্তোস ঘুরে দাঁড়ায়, যদিও কয়েকটি কনট্রা অ্যাটাক ও আকাশে উড়া বল তাদের ভীতি সৃষ্টি করে, যেমন ১৬তম মিনিটে ভিতাওয়ের হেড। ৩৮তম মিনিটে নেইমার একদম ফাঁকা অবস্থায় হেড করেন, কিন্তু বল যায় রোচেতের হাতে—এটাই ছিল ঘরের মাঠে সান্তোসের সবচেয়ে ভালো সুযোগ। ৪২তম মিনিটে ডেইভিড ওয়াশিংটন বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শটে বল পোস্টে লাগান।

গোল বাতিলে ক্ষুব্ধ নেইমার

পিছিয়ে থাকা অবস্থায় সান্তোস কোচ ক্লেবার জেভিয়ের হাফটাইমে বড় সিদ্ধান্ত নেন—জে রাফায়েলের জায়গায় তরুণ মিডফিল্ডার গ্যাব্রিয়েল বোনটেম্পোকে মাঠে নামান। তার প্রভাব দ্রুতই দেখা যায়—সান্তোস খেলার নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং প্রতিপক্ষের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করতে থাকে। ৯ থেকে ১১তম মিনিটের মধ্যে তারা তিনটি সুযোগ তৈরি করে: ডেইভিড ওয়াশিংটন আবারও পোস্টে মারেন এবং নেইমারও হুমকি সৃষ্টি করেন। এই তারকা খেলোয়াড় নিজেই জায়গা তৈরি করে দলের সবচেয়ে ভালো সময়টাকে নেতৃত্ব দেন।

তবে গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হয়। ২৬তম মিনিটে অ্যালান প্যাট্রিক ক্রস দেন, আর বল লাগে এস্কোবারের হাতে। ভিএআর রিভিউর পর রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন এবং রাফায়েল বোরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। সান্তোস এরপরও লড়াই চালিয়ে যায়, আর অতিরিক্ত সময়ে বাররিয়াল একটি গোল করে দলকে আশা দেখান। এরপর তিনটি বড় সুযোগ আসে সমতা ফেরানোর: রবিনহো জুনিয়রের দুটি প্রচেষ্টা এবং নেইমারের একটি, যিনি গোল উদযাপন করেছিলেন, কিন্তু ভিএআরে তা বাতিল হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত