আমরা যে লড়াই শুরু করেছিলাম সে লড়াই শেষ হয়নি। আমাদের এই যুদ্ধ মুজিববাদ ও ফ্যাসিবাদী বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে। আমরা কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ পাইনি। এলাকায় এলাকায় দুর্বৃত্তয়ানের রাজনীতি আবারো শুরু হচ্ছে। মুজিববাদকে পুর্নবাসন করা হচ্ছে। চাঁদাবাজ দখলদারিত্বের রাজনীতি ফিরে আসছে। আমাদেরকে সেই রাজনীতি ঠেকিয়ে দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা শেষে এক পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন সংগঠনের কেন্দ্রিয় আহবায়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়ায়ে যে একতা ও সংহতি তৈরী হয়েছে তা ধরে রাখতে হবে। তার মানে এই নয় যে আমরা চাদাবাজি রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেব। আমরা বলেছিলাম প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার থাকবে। কোন সন্ত্রাসীকেও বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হবে না। ভিন্নমতের অধিকারী হলেও তার মানবাধিকারের পক্ষে থাকবো।
তিনি বলেন, সম্প্রতি যৌথবাহিনী বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। হত্যার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নাহিদ বলেন আমরা যেমন চাঁদাবাজী রাজনীতির বিরোধিতা করি। তেমনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরোধীতা করি।
নাহিদ বলেন আমাদেরকে আবারো জনগনের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি হবিগঞ্জের স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য সমস্যা তুলে ধরে বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কোন সিন্ডিকেট থাকবে না। এনসিপির লড়াই শুধু বাংলাদেশ ব্যাপী নয়। এটি দক্ষিণ এশিয়াব্যাপী।
সীমান্তে হত্যা ও ভারতের মুসলমানদেরকে বাংলাদেশি বলে পুশইনের প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, হিন্দুত্ববাদি ভারত রাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে এ কাজ করে যাচ্ছে। আমরা দক্ষিণ এশিয়ার সকল মুসলিম ও সকল নিপিড়িত ও নির্যাতিত মানুষের ঐক্য গড়ে তুলবো।
জুলাই‘র গণ অভ্যুত্থানে যারা অংশ গ্রহণ করেছিলেন তাদের উদ্দেশ্যে নাহিদ বলেন, এনসিপি শুধু রাজনৈতিক দল নয়, এইদল গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছে। ফলে এই দল দেশ, জনগণ ও যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি দায়িত্ব অনুভব করে।
বিকাল সাড়ে তিনটায় এনসিপি নেতৃবৃন্দ বিবাড়িয়া থেকে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজে পৌছান। ৫টায় নেতৃবৃন্দ সার্কিট হাউজ থেকে স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের পদযাত্রা শুরু করেন। পরে সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে সমাবেশে যোগ দেন।
এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের হবিগঞ্জের প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক। এনসিপির মূখ্য সংগঠক সারজিস আলমের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পদযাত্রা প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল। বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন পাঠোয়ারী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সদস্য ডা. তাসনিম জারা, আব্দুল হান্নান মাসউদ, আবু বাকের মজুমদার।
