এইচআরএসএস’র মানবাধিকার সম্মেলন: 

ক্ষমতা হারানোর ভয় চলে গেলে সরকার দানবে পরিণত হয়: ড. আসিফ নজরুল 

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ০৯:৫১ পিএম

ক্ষমতা হারানোর ভয় চলে গেলে সরকার দানবে পরিণত হয় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি আরও বলেছেন, মানবাধিকার শুধু আইন দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সবার আগে রাষ্ট্রের আইন, বিচার ও নির্বাহী বিভাগ- এই তিন বিভাগের সমস্যার সমাধান করতে হবে। 

শনিবার (২৬ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) উদ্যোগে আয়োজিত ‘১১তম মানবাধিকার সম্মেলন-২০২৫’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। 

ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার ভয় চলে গেলে সরকার কীভাবে দানবে পরিণত হয়, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট আমলে আমরা তা  দেখেছি। আমাদের হাজারের বেশি ছাত্র-জনতাকে প্রাণ দিতে হয়েছে, হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু হয়েছে। এর ভয়াবহ মূল্য উপলব্ধি করে আমাদের চিন্তাধারা বদলাতে হবে। আশাবাদী থাকতে হবে, তবে যেন আমরা ইউটোপিয়ান না হয়ে যাই।’ 

তিনি বলেন, ‘আমাদের দলগুলোর প্রত্যেকের তো সমস্যা আছে। কোনো দল যখন চিন্তা করে পাঁচ বছর পর ক্ষমতা হারাব, তখন ভয়ে হলেও তারা খারাপ কাজ কম করবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন কম করে।’ 

আইন ও বিচার উপদেষ্টা বলেন, ‘মানবাধিকারকে একটি সংস্কৃতি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটা শুধু আইন দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সবার উপলব্ধি, আত্মশুদ্ধি এবং স্বচ্ছতার প্রয়োজন। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধি করতে হবে। আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের সঙ্গে এসব বাস্তবায়িত হলে সত্যিকার অর্থে পরিবর্তন আসতে পারে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে রাষ্ট্রের প্রধান তিন বিভাগের সমস্যা সমাধান করতে হবে। এগুলোর সমস্যা রেখে তথ্য কমিশন, হিউম্যান রাইটস কমিশন বা সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করে কোনো লাভ নেই।’ 

মানবাধিকার বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘অনেকে ভাবেন মানবাধিকার বাস্তবায়ন ইউরোপ ও আমেরিকায় হয়েছে। তারা নিজেদের দেশে মানবাধিকার রক্ষা করলেও সারা বিশ্বে মানবাধিকার লঙ্ঘনে লিপ্ত। তারা যুদ্ধ ছড়িয়ে দেয়। অস্ত্র বিক্রি করে এবং অত্যাচারী শাসকদের সমর্থন করে।’ 

এইচআরএসএস’র চেয়ারপারসন শাহজাদা আল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী মো. নুর খান, জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয় (ইউএনআরসিও) বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার উপদেষ্টা হুমা খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. একরামুল হক, ঢাবি’র শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক সাইফুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সারা হোসেন, জুলাই শহীদ শাহরিয়ার খানের মা সানজিদা খান, আওয়ামী শাসনামলে গুম হওয়া মাইকেল চাকমা, আহমেদ বিন কাশেম প্রমুখ। সেমিনারে মানবাধিকার অলিম্পিয়াডে বিজয়ী দশজনকে ব্যাগ, সম্মান স্মারক, সনদ ও সম্মাননা অর্থ প্রদান করা হয়। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত