আমতলী

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা না পেয়ে বসতঘর ভেঙে নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৫, ০৭:১৩ পিএম

বরগুনার আমতলীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও আড়াই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক পরিবারকে রাতের আঁধারে ঘরছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার গভীর রাতে আমতলী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে। জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ততক্ষণে অভিযুক্তরা বসতঘর ভেঙে তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ২ নম্বর ওয়ার্ডের উদয়ন স্কুল সংলগ্ন হাজী বাড়ির জমিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই জমিতে ঘর নির্মাণ শুরু করলে স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন ও তার সহযোগীরা ওই পরিবারের কাছে আড়াই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

ভুক্তভোগী মাওলানা জহিরুল ইসলাম সালাম জানান, পূর্বশত্রুতার ও চাঁদার টাকা না দেওয়ায় জেরে জাকির হোসেন ও তার ভাইয়েরা শতাধিক লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ আমাদের বাড়িতে হামলা চালান। রাতের আঁধারে ঘর ভেঙে নিয়ে যায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাকির হোসেনসহ স্থানীয় খবির হোসেন, আসাদুজ্জামান লিটন, মঈন খন্দকার, মোশাররফ হোসেন, হাবিব হাওলাদার, কামাল হোসেনসহ শতাধিক অস্ত্রধারী হামলা চালিয়ে ঘর ভেঙে তুলে নিয়ে যায়।

প্রতিবেশী আশরাফ আলী (৫৫) জানান, রাত ৪টার দিকে ঘর ভাঙার শব্দ শুনে বাইরে বের হয়ে দেখি প্রায় শতাধিক লোক লাঠিসোটা নিয়ে ঘর ভাঙচুর করছে। সামনের দিকে আগালে তারা আমাকে ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য করে।

হালিমা বেগম (৩০) নামে একজন বলেন, ‘জাকির হোসেন, খবির হোসেন, আসাদুজ্জামান লিটন, মঈন খন্দকার, মোশাররফ হোসেন, হাবিব হাওলাদারসহ অনেকেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ঘরের সামনে এসে হামলা চালায়। ঘর থেকে বের হতে দেয়নি। গেটের বাইরে অনেক লোকজন দাঁড়িয়ে ছিল।’

ভুক্তভোগীর ভাই আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এই জমি আমাদের তিনশ বছরের পুরনো পৈত্রিক সম্পত্তি। বড় ভাবি অসুস্থ থাকায় বড় ভাই তাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য শহরে যান। সেই সুযোগে রাতের আঁধারে শতাধিক লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমাদের ঘর ভেঙে ফেলে। ঘরে থাকা মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার সময় আমরা জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করি। পুলিশ আসার আগেই তারা পালিয়ে যায়। আমরা ১০-১২ জনকে চিনতে পেরেছি, যারা স্থানীয় বিএনপি-সম্পৃক্ত ও আমাদের চাচাতো ভাই। তারা আমাদের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবি করেছিল। টাকা না দেওয়ায় হামলা চালিয়েছে।’

আমতলী থানার ওসি ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, বিষয়টি দেওয়ানি মামলা হিসেবে আদালতে চলমান রয়েছে, ভুক্তভোগীদের আদালতের শরণাপন্ন হতে পরামর্শ দিয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত