কার ওপর কমল শুল্ক, কার ওপর চাপল নতুন কর?

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৫, ১১:২৪ এএম

ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক হার কার্যকর হচ্ছে আজ শুক্রবার থেকে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন এক ধরনের অনিশ্চয়তার সৃষ্টি করবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সময়সূচি বেশ কয়েকবার পেছানো হয়েছিল; শুরু হয় ২ এপ্রিল ‘স্বাধীনতা দিবস’ থেকে, পরে সেটি ৯ জুলাই এবং অবশেষে আজকের দিন পর্যন্ত স্থগিত ছিল।

২ এপ্রিলের ওই দিনটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ওই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, চলতি বছরের ৯০ দিনের মধ্যে ৯০টি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হবে। কিন্তু বাস্তবতা তার থেকে ভিন্ন, কারণ ১২০ দিনের মধ্যে মাত্র ৮টি চুক্তি হয়েছে, যার মধ্যে একটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে।

এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আটটি দেশের বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য (৮ মে), ভিয়েতনাম (২ জুলাই), ইন্দোনেশিয়া (১৫ জুলাই), ফিলিপাইন (২২ জুলাই), জাপান (২৩ জুলাই), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (২৭ জুলাই), এবং দক্ষিণ কোরিয়া (৩১ জুলাই)। এছাড়া চীনের সঙ্গে অন্তর্বর্তী চুক্তি ১২ মে হয়েছে, যদিও এখনো আলোচনা শেষ হয়নি। চারটি দেশের সঙ্গে জোরালো আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাজ্য প্রথম দেশ হিসেবে মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, যেখানে ১০ শতাংশ ভিত্তি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। তবে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে ছাড় এবং কোটার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ চুক্তি নিয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের পরও কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, বিশেষ করে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক সংক্রান্ত। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র চায় যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল পরিষেবা কর বাতিল করা হোক যাতে তাদের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো শুল্কের আওতায় না পড়ে।

ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় চুক্তিতে শুল্ক ৪৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ভিয়েতনামের পথ ধরে যাওয়াকে ঠেকাতে ‘ট্রান্সশিপমেন্ট’ নামে একটি ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে ৪০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়। তবে এ বিষয়ে এখনো স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। ভিয়েতনাম ১১ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাশা করলেও ট্রাম্প একতরফাভাবে ২০ শতাংশ ঘোষণা করেন।

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে জুলাই মাসের চুক্তিতে শুল্ক কমে ৩২ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নেমেছে। মার্কিন হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ৯৯ শতাংশের বেশি মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক উঠানো হবে।

ফিলিপাইন শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নামিয়েছে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর আর কোনো শুল্ক আরোপ করবে না বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও সামরিক সহযোগিতার আলোচনা হয়েছে।

জাপানের সঙ্গে চুক্তিতে শুল্ক কমে ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নেমেছে এবং গাড়ি খাতে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প এটিকে ‘সম্ভবত সবচেয়ে বড় চুক্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন, জাপান যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে, যার ৯০ শতাংশ মুনাফা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের পকেটে যাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তিতে শুল্ক কমে ৩০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নেমেছে। তবে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী এটিকে ‘আত্মসমর্পণ’ ও ‘অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, ইইউ কমিশনার এটিকে ‘চরম বাস্তবতায় সেরা চুক্তি’ হিসেবে দেখছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে এবং সেই বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, যা ট্রাম্প নিজেই নির্বাচন করবেন।

চীনের সঙ্গে এখনো চুক্তি হয়নি। বর্তমান শুল্ক বিরতি অব্যাহত রয়েছে; চীনের ওপর ৩০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চীন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। সাম্প্রতিক স্টকহোম বৈঠকেও বিরতি বাড়েনি।

ভারতের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, সঙ্গে অতিরিক্ত ‘শাস্তিমূলক’ কর আরোপের কথা বলছেন রাশিয়ার কাছ থেকে অস্ত্র ও জ্বালানি কেনার জন্য। ২ এপ্রিল ভারতের ওপর শুল্ক ছিল ২৬ শতাংশ, যা বর্তমানে ১ শতাংশ কমে গেছে।

কানাডার পণ্যের ওপর ১ আগস্ট থেকে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। মাদক পাচারের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আলোচনা ‘গুরুতর পর্যায়ে’ রয়েছে।

মেক্সিকোর ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, সীমান্ত সুরক্ষায় মেক্সিকো যথেষ্ট ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তাই শুল্ক বাড়ানো হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার ওপর আপাতত ১০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে, যা পরবর্তীতে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের গরুর মাংস আমদানিতে বিধিনিষেধ শিথিল করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট মোট ২২টি দেশকে চিঠি দিয়েছেন যেখানে ১ আগস্ট থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। মোট ১৫০টি দেশকে এ ধরনের চিঠি দেওয়া হবে এবং শুল্ক কার্যকর করার সময়সীমা আর পিছানো হবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত