ঈশ্বরগঞ্জে বাঁশ ও কাঠের মাচায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৬:১৭ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগি ইউনিয়নের কাঁচামাটিয়া নদীর ওপর নির্মিত ফুট সেতুর একটি পাটাতন ভেঙে ১ বছর ধরে পড়ে আছে নদীতে। সেতু ভাঙার এক বছর পার হলেও হয়নি কোন দৃশ্যমান সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণ পদক্ষেপ। স্থানীয় বাসিন্দা ও ইজিবাইক চালকরা বাঁশের খুঁটি ঘেড়ে তাতে কাঠের তক্তা দিয়ে মাচা তৈরি করে সাময়িক চলাচলের উপযোগী করে তুললেও গত এক বছরে সেই মাচাও ভেঙেছে ৩ বার। এতে ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতু দিয়ে চলাচল করছে চারটি ইউনিয়নের ১০ গ্রামের বাসিন্দাসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।  

সরেজমিন উপজেলার সোহাগি ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামে কাঁচামাটিয়া নদীতে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির একাংশ ভেঙে নদীতে পড়ে আছে। ভেঙে যাওয়া অংশে দেওয়া হয়েছে বাঁশ ও কাঠের তৈরি মাচা। সেতুর ভেঙে পড়া পাটাতনে যাওয়ার আগে থামছে তিন-চাকার যানবাহন। যাত্রীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে বাঁশ ও কাঠের মাচার ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেল, রিকশা ও সাইকেলসহ অনেক মানুষ।

স্থানীয়রা বলছেন, গত বছরের ১২ জুলাই সেতুর প্রায় ৩০ ফুট পাটাতন ভেঙে নদীতে পড়ে যায়। এতে ১ বছর ধরে সোহাগী, জাটিয়া, ঈশ্বরগঞ্জ ও সরিষা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব এলাকায় চলাচলের বিকল্প উপায় না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তাদের নদী পার হতে হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও আছে।  

সাহেবনগর গ্রামের চল্লিশোর্ধ ইজিবাইক শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘এক বছর ধরে বিরিজডা ভেঙে পড়ে আছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় আমরা বাঁশ ও কাঠের তক্তা দিয়ে সাময়িক চলাচল করার উপযোগী করে তুলি। কিন্তু সেই বাঁশ ও কাঠের মাচাও ১ বছরে তিনবার ভেঙেছে। আমরা তিনবারেই কোনমতে টেনেটুনে মেরামত করেছি। এতে যাত্রীসহ আমাদের গাড়ি ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। 

সেতু সংলগ্ন বগাপুতা গ্রামের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন (৪২) বলেন, ‘এই সেতুর ওপর দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ গাড়ি চলাচল করে। আশেপাশের দশ গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো সেতুটি ভাঙার ১ বছর পার হলেও এখনও কোন সংস্কার কিংবা নির্মাণ উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। ফলে ১০ গ্রামের বাসিন্দাসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, মাদরাসার হাজারও শিক্ষার্থী চরম দুর্ভোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

সোহাগি বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী পারুল আফরিন ঐশী ও সানজিদা জাহান বলে-ব্রিজটির উপর দিয়ে গেলেই ভয় লাগে। কখন যেন ভেঙে নিচে পড়ে যাই। 

উপজেলা এলজিইডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহাগী ইউনিয়নের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে কাঁচামাটিয়া নদী। নদীর এক পাশের অংশে সোহাগী বাজারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নদীর অন্য পাশের অংশে চারটি ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষের বসবাস। তাই নদীর ওপারের বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নসহ পারাপারের জন্য ১৯৯৯ সালে ৭৫.১ মিটার দীর্ঘ ফুট ব্রিজ নির্মাণ করে দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী (এলজিইডি)। অবশ্য স্থানীয়রা জানান, নামে ফুট ব্রিজ হলেও এর ওপর দিয়ে অটোরিকশা, সিএনজি, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন চলাচল করে। 

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘এটি মেরামতের সুযোগ নেই। এখানে নতুন ব্রিজ করা হবে। নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চাহিদা পাঠিয়েছি। আশা করছি তা বাস্তবায়ন হবে।’  

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ‘ভাঙা সেতুটির ব্যাপারে আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টি আমি এলজিইডির ইঞ্জিনিয়ারকে জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত