২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা এনসিপির

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৩ এএম

দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে ‘নতুন বাংলাদেশে’র ২৪ দফা ইশতেহার দিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল রবিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার পাঠ করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ইশতেহারে নতুন সংবিধান প্রণয়ন, জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্রকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, জুলাই গণহত্যার বিচার, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়া, জনবান্ধন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৈরি, প্রবাসীদের অধিকার রক্ষাসহ বিভিন্ন দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গত ১৬ বছর দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ছিল না। গুম, খুন, সন্ত্রাসী কাজ, মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। এসবের প্রতিবাদে এ দেশের জনগণ ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য ৯ দফা ও পরবর্তী সময়ে এক দফা ঘোষণা করেছিল। রাষ্ট্রে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ধ্বংস করতে আমরা এনসিপি গঠন করেছিলাম। আমরা বলেছিলাম, এমন বন্দোবস্ত আনব সেখানে কোনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। কিন্তু আমরা এক বছরেও এখনো পুরনো বন্দোবস্তের পতন ঘটাতে পারিনি, নতুন সংবিধান তৈরি করতে পারিনি, ক্ষমতার দুর্নীতিপরায়ণ স্তম্ভ ও সামরিক-প্রশাসনিক কাঠামো ভাঙতে পারিনি, লুটেরাদের অর্থনৈতিক ভিত্তি ভাঙতে পারিনি। আজ আমরা নিজেদের অক্ষমতা স্বীকার করতেই এখানে এসেছি।’ তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়তে ২৪ দফা ঘোষণা করছি। এই ২৪ দফার ভিত্তিতে এনসিপি দেশকে সামনে এগিয়ে নেবে।

এনসিপির ২৪ দফা ইশতেহার হলো

১. নতুন সংবিধান ও সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠা এনসিপি একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেয়, যা বাংলাদেশের উপনিবেশবিরোধী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠবে। এই সংবিধানে একনায়কতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা বিলুপ্ত করে গণতান্ত্রিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠন করা হবে। ব্যক্তি অধিকার রক্ষা, রাষ্ট্রের শক্তির ভারসাম্য এবং জুলাই ঘোষণাপত্রসহ সংবিধানগত সনদগুলোর স্বীকৃতি নিশ্চিত করা হবে।

২. জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বিচারব্যবস্থা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেবে এবং ঐতিহাসিক শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ছাড়া শাপলা গণহত্যা, বিডিআর ট্র্যাজেডি, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।

৩. গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হবে ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠী নির্বিশেষে ন্যায়ভিত্তিক ও জনসেবামূলক। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা হবে।

৪. বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ক্ষমতাবানদের নয়, সাধারণ মানুষের পক্ষে কাজ করবে। ঔপনিবেশিক পুরনো আইন সংস্কার করে মানবাধিকারমুখী, সময়োপযোগী ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য বিচারক ও আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি, মামলার ডিজিটাল নথিপত্র ও অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হবে।

৫. রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলা হবে; যেখানে নিয়োগ, বদলি ও প্রমোশন হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। আমলাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণ এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

৬. ওয়ারেন্টবিহীন গ্রেপ্তার রাজনৈতিক অপব্যবহার ও নির্যাতন বন্ধ করে পুলিশ বাহিনীকে নাগরিক সেবামুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পুলিশ আইনের সংস্কার, স্থায়ী পুলিশ কমিশন গঠন ও পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

৭. স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। সংসদ সদস্যদের অযাচিত প্রভাব হ্রাস করে স্থানীয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা হবে।

৮. গণমাধ্যমকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থের হাতিয়ার থেকে মুক্ত রাখা হবে।

৯. অর্থের অভাবে কেউ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন না। জরুরি চিকিৎসায় জিপিএসচালিত অ্যাম্বুলেন্স ও ডিসপ্যাচ ব্যবস্থা চালু করা হবে। ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড ও ইউনিক হেলথ আইডির মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় নিশ্চিত করা হবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে।

১০. শিক্ষাকে পণ্য নয়, জাতির গঠনমূলক উপাদান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বিজ্ঞান, গণিত, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও কারিগরি শিক্ষায় জোর দিয়ে দক্ষ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আধুনিক জাতীয় পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হবে। বাংলা, মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যমের যৌক্তিক সমন্বয় ঘটানো হবে। বৃত্তিমূলক ও নার্সিং শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে।

১১. গবেষণা, উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবÑ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে ৫০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

১২. সব ধর্ম, সম্প্রদায় ও জাতির সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও নৃতাত্ত্বিক অধিকার রক্ষা করা হবে। ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দলিত, তফসিলি ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

১৩. নারীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে ১০০টি সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যবস্থা করা হবে।

১৪. মানুষের মৌলিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, ইন্টারনেট) উন্নয়নের ভিত্তি হবে। বাজারভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করে সিন্ডিকেট ও অলিগার্কদের প্রভাব হ্রাস করা হবে। ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসার বিকাশ নিশ্চিত করা হবে। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় বেকার ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, শিশু ভাতা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য ভাতা নিশ্চিত করা হবে। পথশিশু ও ছিন্নমূলদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

১৫. তারুণ্য ও কর্মসংস্থান রপ্তানিমুখী শ্রমঘন শিল্পের বহুমুখীকরণ ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতে ইন্টার্নশিপের সুযোগ বৃদ্ধি, চাকরির পরীক্ষায় দুর্নীতি, প্রশ্নফাঁস ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু করা হবে। তরুণ উদ্যোক্তা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহ দিতে উদ্ভাবন সহায়ক পরিবেশ তৈরিসহ বিদেশে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গঠন করা হবে।

১৬. বিভিন্ন দেশ ও ব্লকের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা হবে। গার্মেন্টস ছাড়াও শ্রমঘন খাত যেমন চামড়া, পাদুকা, আসবাব, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও উচ্চমূল্য সংযোজন খাত যেমন ওষুধ, ইলেকট্রনিকস, আইসিটি খাতে বিনিয়োগ ও প্রণোদনা জোরদার করা হবে।

১৭. কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং ক্রেতাদের স্বার্থরক্ষা করা হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, জলবায়ু-সহনশীল বীজ, পরিবেশবান্ধব সার ও প্রযুক্তিনির্ভর সহায়তায় কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা হবে।

১৮. সব শ্রমিকের স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের জন্য আয়-সক্ষমতা অনুযায়ী অঞ্চলভিত্তিক ন্যূনতম মজুরি কাঠামো গঠন করা হবে। শ্রমিকদের সামাজিক ও আইনি সুরক্ষা, পরিবেশগত ঝুঁকি থেকে রক্ষা, জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তার জন্য স্থায়ী শ্রম কমিশন গঠন করা হবে। কৃষকদের উৎপাদন ঝুঁকি কমাতে এরিয়াভিত্তিক কৃষি বীমা চালু করা হবে।

১৯. জাতীয় সম্পদের সার্বভৌম মালিকানা জনগণের কাছে নিশ্চিত করা হবে। প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধান ও আহরণে দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। সম্পদের ব্যবহার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হবে এবং স্থানীয় জনগণের ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করা হবে।

২০. অপরিকল্পিত নগরায়ণ মোকাবিলায় নদী-খালকেন্দ্রিক নগর ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ দ্রুতগতির গণপরিবহন ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণসহ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত সামাজিক আবাসন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

২১. জলবায়ু সহনশীলতা ও নদী-সমুদ্র রক্ষা-জলবায়ু-সহনশীল, দূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নদী, বায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। সামাজিক বনায়ন ও বনজ সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপদ বাসস্থান ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়িয়ে পরিবেশ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

২২. প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের উৎস হিসেবে নয়, দেশের সম্মান ও পুনর্গঠনের অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তাদের স্বাস্থ্যসেবা, কল্যাণ, হয়রানিমুক্ত সেবা ও ভোটাধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করা হবে। দেশে ফিরে আসা বা সংকটাপন্ন প্রবাসীদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করা হবে।

২৩. সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য অংশ পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক সমাধানে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতির মাধ্যমে কাজ করা হবে। মুসলিমপ্রধান রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।

২৪. অত্যাধুনিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ও ড্রোন প্রযুক্তি অধিগ্রহণের মাধ্যমে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। সেনাবাহিনীতে ইউএভি ব্রিগেড গঠন ও দেশীয় সামরিক গবেষণা ও উৎপাদন বাড়ানো হবে। নন-নিউক্লিয়ার সেকেন্ড স্ট্রাইক সক্ষমতা অর্জন এবং সাবমেরিনভিত্তিক শক্তিশালী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠন করা হবে।

সমাবেশে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘চব্বিশের অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে যে নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর আবির্ভাব হয়েছে, তারা দেশের কোথাও বিপদ দেখলে জীবন দিয়ে তা প্রতিহত করবে। যুগের পর যুগ যে বঞ্চনা চলে আসছে, তা দূর করতে এ জনগোষ্ঠী শহীদ হয়েছে, আহত হয়েছে। আমরা নতুন বাংলাদেশে কোনো বিভাজনের রাজনীতি দেখতে চাই না। আমরা কারও মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে চাই না। একদলীয় নেতৃত্ব, প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয়করণ দেখতে চাই না। সচিবালয় থেকে হওয়া সিদ্ধান্ত দলীয় নয় বরং অবশ্যই জনগণের কল্যাণে হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যে জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদ ঘোষণা করবে তার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে বলে আমরা জানিয়েছি। জুলাই সনদকে আমরা কাগুজে বাঘে পরিণত হতে দেব না। এ সনদ অন্তর্র্বর্তী সরকারকেই বাস্তবায়ন ও কার্যকর করতে হবে।’

এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অভ্যুত্থানের এক বছর পেরিয়েছে। আমরা শুধু কথা বলেছি, এখন কাজের সময়। আমরা জানি, এলাকায় এলাকায় এনসিপির কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে, বাধা দেওয়া হচ্ছে। আমি বলতে চাই, আপনারা পিছু হটবেন না। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া এনসিপির একজনের ওপর চোখ তুলে তাকালে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব।’

এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধান একটা দলের ছিল। যে সংবিধান আরেকটা দেশ থেকে পাস হয়ে এসেছে। এই মুজিববাদী সংবিধান আর বাংলাদেশে থাকতে দিতে পারি না। আমরা এই মঞ্চে মুজিববাদী সংবিধান ভেঙেচুরে শেষ করে দিয়ে নতুন সংবিধান চাইতে এসেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘৫৪ বছরেও দেশের মানুষ অধিকার পায়নি। আজ থেকে এক বছর আগে আমরা এই শহীদ মিনারে এসেছিলাম। এই দিনে হাসিনার পতনের ডাক এসেছিল। এক বছর হয়ে গেছে, আজও আমাদের অধিকার পাইনি। আমরা আর হতাশার কথা শুনতে চাই না।’

এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমাদের একটি দেশের দাস বানানো হয়েছিল। তারাই খুনি হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশের সব সম্ভাবনা তারা দাবিয়ে রেখেছিল। আমরা সমতা, সাম্য ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেশ গড়তে চাই। মুসলিম নিপীড়িতদের পাশে থেকে আমরা পররাষ্ট্রনীতি গড়তে চাই। আমাদের অধিকার ন্যায্যতার ভিত্তিতে বিশ্ব মঞ্চের নেতৃবৃন্দ এলে আমরা তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হব। আমরা জানাতে চাই, যেখানেই বাংলাদেশিরা, সেখানেই সীমান্ত হবে আমার।’

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা বলেন, ‘আমরা আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবাকে উন্নত করব যেন মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা পেতে কষ্ট না হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এমন রাজনীতি করব যেখানে নারীরা সক্রিয় অংশগ্রহণ করে। হাসিনা হলো ইয়াজিদ, এই বাংলার মাটিতে ইয়াজিদ হাসিনার বিচার করেই ছাড়ব।’

মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘এই বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের শেষ নেই। আগে দেশে বসে ষড়যন্ত্র হতো, এখন দিল্লিতে বসে ষড়যন্ত্র হয়। ছয় মাস ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে একজন মেজর কিন্তু সরকার টের পেয়েছে ছয় মাস পর। দেশের বিভিন্ন স্থানে খুন হচ্ছে কিন্তু আমরা আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিনি। আমাদের শহীদ জসীম ভাইয়ের মেয়েকে ধর্ষিত দেখেছি, বিচার হয়নি তাই তাকে আত্মহত্যা করতে হয়েছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুজিববাদী সংবিধান বাতিল করতে হবে। অন্যথায় তা আওয়ামী লীগের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত