যৌন হয়রানির অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বেরোবি প্রশাসন।
পরিসংখ্যান বিভাগের একজন নারী শিক্ষার্থীর লিখিত ও ১৫ জন শিক্ষার্থীর মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ১১৩তম সভার সিদ্ধান্তক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর নির্দেশক্রমে রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর রশিদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রদান করা হয়। তবে তা প্রকাশিত হয় সোমবার বিকেল ৫ টায়।
এছাড়াও মার্ক টেম্পারিংয়ের অভিযোগে অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলামকে দুই সপ্তাহ আগে পরিসংখ্যান বিভাগের সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে ৫ বছরের জন্য স্তগিতাদেশ দেয়া হয় বলে জানা যায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশীদ।
জানা যায়, গত এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষকের নামে যৌন নিপীড়ন ও হয়রানির অভিযোগে সরগরম হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় পরিসংখ্যান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী প্রথমে ফেসবুকে বিভিন্ন স্ক্রিনশট এবং পরে সহপাঠী ও অন্যদের সাহসে প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ জানায়।
এর প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং প্রতিবেদন জমা দেয়। তবে অভিযুক্তকে শাস্তি দেয়ার বিষয়ে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ জুলাই মাসে তারা পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং আন্দোলন করতে থাকেন।
পরবর্তীতে উপাচার্য গিয়ে শাস্তির নির্দেশ দেয়ার জন্য ২২ জুলাই পর্যন্ত সময় নেন এবং সেটায়ও ব্যর্থ হন। পরে পুনরায় চাপ দেয়া হলে তিনি ৩ আগস্ট সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান এবং জরুরি সিন্ডিকেট করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ৪ আগস্ট প্রকাশ করেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন শুধু সাময়িক বরখাস্ত করা হলো এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, কিভাবে একজন যৌন হয়রানিকারীর সাজা এত কম হয়। আমরা তো অনিরাপদ ফিল করছি। এই প্রশাসন বারবার আমাদের আশা দিয়ে তা পূরণ করছে না। আমরা এই শিক্ষক নামের কলঙ্কের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারী কর্মচারী বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী কাউকে শাস্তি দিতে হলে প্রসিডিউর ফলো করতে হয়। আর উনাকে যে সাজা দেয়া হয়েছে সেটা পূর্ণাঙ্গ শাস্তি ঘোষণা হওয়ার আগ পর্যন্ত। দ্রুত প্রশাসন একটি ট্রাইবুনাল গঠন করবে এবং সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত তিনি বরখাস্ত থাকবেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলি ও সদ্য বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক অধ্যাপক রশীদুল ইসলামের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
