পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন নিয়ে আর নিষেধাজ্ঞা মানবে না রাশিয়া

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৫, ০৯:২১ এএম

এখন থেকে ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তির আওতায় মাঝারি ও স্বল্প পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন নিয়ে স্ব-আরোপিত নিষেধাজ্ঞা (মোরেটোরিয়াম) আর মানবে না বলে জানিয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইএনএফ চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার আগে নেওয়া স্বেচ্ছা বিধিনিষেধগুলো এখন থেকে আর প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইতোমধ্যে মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে—এই যুক্তিতে মস্কোও নিজের অবস্থান বদলেছে।

‘যুক্তরাষ্ট্র এখন এসব অঞ্চলে ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করছে, তাই রাশিয়ার একতরফা মোরেটোরিয়াম রাখার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই,’ —বলা হয়েছে বিবৃতিতে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, এ ঘোষণার পর সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট ও নিরাপত্তা পরিষদের উপ-প্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ন্যাটোর ‘রাশিয়া-বিরোধী নীতি’-র জবাবে মস্কো ‘আরও পদক্ষেপ’ নেবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে মেদভেদেভ লিখেছেন, ‘ন্যাটোর রাশিয়াবিরোধী নীতির কারণে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি এক নতুন বাস্তবতা, যা আমাদের প্রতিপক্ষদের মেনে নিতে হবে। আরও পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকুন।’

মেদভেদেভ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কড়া বক্তব্য দিয়েছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে বাকযুদ্ধে জড়িয়েছেন।

এরই জেরে গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেন, মেদভেদেভের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দুইটি মার্কিন পারমাণবিক সাবমেরিনকে ‘উপযুক্ত অঞ্চলে’ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে ডিসেম্বরে ল্যাভরভ রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ নভস্তিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে আমাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র এমন অস্ত্র বিভিন্ন অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। ফলে মস্কোর একতরফা মোরেটোরিয়াম বজায় রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালে সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের মধ্যে স্বাক্ষরিত আইএনএফ চুক্তির মাধ্যমে ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিষিদ্ধ করা হয়। তবে ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে রাশিয়ার ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসে।

এদিকে, ট্রাম্পের পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েন সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা এই ইস্যুতে প্রকাশ্যে বিতর্কে যেতে চায় না।

ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ‘মার্কিন সাবমেরিনগুলো সবসময়ই যুদ্ধ প্রস্তুতি অবস্থায় থাকে—এটা নতুন কিছু নয়। তবে আমরা চাই না এই বিষয়ে কোনো খোলামেলা বিতর্কে জড়াতে। সকল পক্ষের পারমাণবিক ইস্যুতে অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত।’

এই ঘটনাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে রাজি না হলে দেশটির তেল ক্রেতা দেশগুলোর ওপরেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। যদিও প্রেসিডেন্ট পুতিন গত সপ্তাহে বলেন, শান্তি আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে ময়দানে রাশিয়ার হাতই এখনো ‘উপরে’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত