চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে খালের দখলকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত স্কুলছাত্র মো. রিফাতুর রহমানের (১৭) হত্যা মামলার আসামিরা জামিনে এসে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে ক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। শনিবার আসামিদের গ্রেফতার দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান হলে সংবাদ সম্মেলন করে রিফাতের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিফাতের বড় ভাই রিয়াদুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন রিফাতের বাবা জামসেদুর রহমান মেম্বার, ছোট ভাই মাহিন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২১ মে আমার ছোট ভাই, স্কুলছাত্র রিফাতকে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় নৃশংসভাবে, প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়। সে মাদক, দখল, অবৈধ মাটি কাটার মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াত। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করত, প্রমাণ দেখাত। এ কারণেই রাজু বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হয়। রাজু বাহিনীর প্রধান রাজু টাকার বিনিময়ে সারিকাইত ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ কিনে নিয়েছে। তার ডান হাত মোহাম্মদ আলমগীর মগধরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এদের নেতৃত্বেই সন্দ্বীপে গড়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী বাহিনী।
এতে আরও বলা হয়, চলতি বছর ২৪ মে, আমার বাবা বাদী হয়ে সন্দ্বীপ থানায় মামলা করেন। রাজু বাহিনীর প্রধান রাজুকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা হয়। কিন্তু তারা সবাই উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, নির্বিঘ্নে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে। বর্তমানে এই রাজু বাহিনী এতটাই বেপরোয়া যে তাদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে আমাদের প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। রিফাতের মতো আমাদেরও মেরে ফেলা হবে ভয় দেখাচ্ছে। আমরা বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সন্ত্রাসী রাজুকে গ্রেফতার করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
নিহত রিফাতের পিতা জামসেদুর রহমান মেম্বার বলেন, আমি ৪০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। বর্তমানে মগধরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও উপজেলা শ্রমিক দলের ক্রীড়া সম্পাদক। অথচ বিএনপি পরিবার হয়েও আমার ছেলেকে হারিয়েছি বিএনপি নামধারী কিছু সন্ত্রাসীর হাতে। দুঃখজনকভাবে, উপজেলা বিএনপির একাংশ রাজু-আলমগীরকে বাঁচাতে মিছিল করেছে। আমি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ করছি- রাজুদের মত সন্ত্রাসীদের যাতে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
