‘বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল, কিন্তু উদ্বেগ রয়ে গেছে’

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ১০:৩৮ এএম

দেশের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতা পেয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৪ সালের বাংলাদেশ সংক্রান্ত এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সাবেক সরকারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া আগের সরকারের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তদের ব্যাপক দায়মুক্তির অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

একই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, জুলাই ও আগস্টে ছাত্রলীগের অংশগ্রহণে সংঘটিত আন্দোলনে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ব্যাপী ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন ও পুলিশ ও আওয়ামী লীগের যুব সংগঠনের সঙ্গে সংঘর্ষে শত শত লোক নিহত হওয়ার পর ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। এরপর ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে প্রধান উপদেষ্টা (প্রধানমন্ত্রীর সমতুল্য) করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। আগস্ট মাসে কিছু ঘটনা ঘটলেও মানবাধিকার পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হয়ে ওঠে; তবুও কিছু উদ্বেগ রয়ে গেছে।

আগের সরকারের সময় পাওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের বড় অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল— বেআইনি বা ইচ্ছাকৃত হত্যা, গুম, নির্যাতন বা অমানবিক ও অপমানজনক আচরণ ও শাস্তি, নির্বিচারে গ্রেপ্তার বা আটক, বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তঃসীমান্ত দমননীতি, মত প্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা (যেমন সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা বা হুমকি, অযৌক্তিক গ্রেপ্তার বা মামলা, সেন্সরশিপ), শ্রমিক সংগঠন গঠনে বাধা, শ্রমিক নেতা ও ইউনিয়ন সদস্যদের ওপর সহিংসতা বা হুমকি, এবং শিশু শ্রমের ভয়াবহতম রূপের বিস্তার।

তাছাড়া আগের সরকারের সময় মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাবদিহি কম হওয়ার অভিযোগ ছিল। খুব কম ক্ষেত্রে কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শনাক্ত ও শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করেছে।

মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই ও আগস্টে সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত ছিল। এসব অপরাধের দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতিসংঘের সহায়তায় দেশের সাধারণ বিচারব্যবস্থা ও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল—এই দুই কাঠামোই ব্যবহার করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত