বিরল স্নায়ু-পেশি রোগে আক্রান্ত মনিকা সেলেস 'জীবন রিসেট' দিচ্ছেন বার বার

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৫:৪২ পিএম

নয়বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়ন মনিকা সেলেস মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস (এমজি) নামের বিরল স্নায়ু-পেশি সম্পর্কিত অটোইমিউন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ২৪ আগস্ট থেকে ইউএস ওপেন শুরুর আগে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে বিষয়টি তুলে ধরে সেলেস রোগটি সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

৫১ বছর বয়সী সেলেস অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, খেলোয়াড়ি জীবনে এবং অবসরের পর বহুবারের মতো র‍্যাকেট ঘোরানোর সময়ই তিনি প্রথম লক্ষণগুলো লক্ষ্য করেন। “আমি বাচ্চাদের সঙ্গে বা পরিবারের কারও সঙ্গে খেলছিলাম, আর হঠাৎ বল মিস করছিলাম। ভাবতাম, ‘হ্যাঁ, আমি তো দুইটা বল দেখছি।’ এই লক্ষণগুলো অবহেলা করা যায় না,” বলেন সেলেস। “আমার জন্য এখান থেকেই এই যাত্রা শুরু। মানিয়ে নিতে, খোলাখুলি বলতে অনেক সময় লেগেছে, কারণ এটি কঠিন একটি রোগ এবং আমার দৈনন্দিন জীবনে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে।”

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডারস অ্যান্ড স্ট্রোক এমজিকে “একটি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ু-পেশি রোগ, যা স্বেচ্ছাচালিত পেশিতে দুর্বলতা সৃষ্টি করে” বলে উল্লেখ করেছে। এটি সাধারণত ৪০ বছরের নিচের নারীদের এবং ৬০ বছরের ওপরে পুরুষদের বেশি প্রভাবিত করলেও যেকোনো বয়সে এমনকি শিশুদের মধ্যেও হতে পারে।

সেলেস জানান, রোগটির নামও তিনি আগে শোনেননি। ডাবল ভিশন, হাত-পায়ের দুর্বলতা— এমনকি “চুল শুকানোও খুব কঠিন হয়ে যাওয়া”— এসব লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে গিয়ে নিউরোলজিস্টের কাছে রেফার্ড হয়েছিলেন তিনি। “ডায়াগনোসিস হওয়ার পর আমি ভাবলাম, ‘কি?!’”— বলেন সেলেস, যিনি বর্তমানে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক ইমিউনোলজি কোম্পানি আর্জেনক্সের ‘গো ফর গ্রেটার’ প্রচারণায় যুক্ত হয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করছেন। “আমি চাইতাম আমার মতো কেউ আগে এসে এ নিয়ে কথা বলুক।”

১৯৯৩ সালে জার্মানির হামবুর্গে এক ম্যাচ চলাকালে এক দর্শকের ছুরিকাঘাতের শিকার হয়ে দীর্ঘ সময় কোর্টের বাইরে ছিলেন সেলেস। দুই বছরের বেশি বিরতির পর ১৯৯৫ ইউএস ওপেনে ফাইনালে ফেরাটা তিনি জীবনের বড় রিসেট হিসেবে দেখেন।

তিনি বলেন, “আমার জীবনে অনেকবার ‘হার্ড রিসেট’ করতে হয়েছে— ১৩ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা, খ্যাতি-টাকা-মনোযোগ সামলানো, ছুরিকাঘাতের পর ফের কোর্টে ফেরা— সবই বড় পরিবর্তন। এখন মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস ধরা পড়াও আরেকটি রিসেট। আমি যেসব শিশুদের মেন্টর করি তাদের বলি, ‘তোমাকে সবসময় মানিয়ে নিতে হবে। বল বাউন্স করছে, তোমাকে অ্যাডজাস্ট করতে হবে।’ আমি এখন সেটাই করছি।”

আরও একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেও ক্যারিয়ারে ৫৩টি শিরোপা এবং ১৭৮ সপ্তাহ বিশ্ব এক নম্বরের আসনে কাটিয়ে ২০০৩ সালে শেষ ম্যাচ খেলেন সেলেস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত