ইবিতে শ্রেণিকক্ষে শিবিরনেতারা, ক্লাস না নিয়ে বেরিয়ে গেলেন অধ্যাপক

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩৬ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক ও প্রশাসন বিভাগে ২০২৪-২৫ বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে ক্লাসে  যাওয়া শিবির নেতাদের সঙ্গে এক শিক্ষকের বাকবিতণ্ডা হয়েছে। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শিডিউল অনুযায়ী ক্লাস নিতে গিয়েছিলেন বিএনপিপন্থী সাদা দলের আহ্বায়ক ও বিভাগটির প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি শাখা ছাত্রশিবিরের কাছে জানতে চান তারা কেন এসেছে। এ সময় বিভাগের সভাপতির অনুমতি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে এসেছেন বলে জানায় শিবির নেতাকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলে, শিবিরের কিছু নেতাকর্মী আমাদের ক্লাসে ঢুকে তাদের সংগঠন সম্পর্কে বলছিলেন। স্যার ক্লাসে ঢুকে প্রথমে তারা কারা জানতে চায় এবং বেরিয়ে যেতে বলে। তখন শিবিরের নেতাকর্মীরা জানান বিভাগীয় সভাপতির অনুমতি নেওয়া হয়েছে। কার্যক্রম শেষ করে বের হয়ে যাবে। এ সময় প্রফেসর মতিন বলেন, ‘এটা সভাপতির বিষয় না, এটা আমার ক্লাসের সিডিউল’। এরপর তাদের বাকবিতন্ডা হয়। পরে স্যার ক্লাস ক্যানসেল করে চলে যান।

শিক্ষার্থীরা জানান, ক্লাস থেকে বের হয়ে প্রফেসর মতিনসহ শিবিরের সবাই করিডোরের দিকে যায়। ওখানে বিভাগীয় সভাপতি ছিলেন। প্রফেসর মতিন তাকে বলেন,  ‘আমার ক্লাসের সময় এদের ঢোকার অনুমতি কেন দিয়েছেন?’ এরপর শিবিরের নেতাকর্মীরা বলা শুরু করে ‘স্যার আপনি এভাবে অপমান করে কেন বের করে দিলেন? একটা সংগঠনের সেক্রেটারিকে এভাবে গেট লস্ট বলতে পারেন না।' এ সময় শিবিরের কয়েকজন প্রফেসর মতিনকে জেরা করেন। প্রফেসর মতিন বলেন, ‘তোমরা কোন সংগঠনের সেটা আমার দেখার বিষয় না। আমার দেখার বিষয় যে তোমরা ছাত্র।’

ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শিবির নেতা বলেন, ‘আমরা প্রায় ৭/৮ জনের মতো বিভাগে গিয়েছিলাম। আমরা জানতাম না ক্লাস ছিল। বিভাগের সভাপতির অনুমতি ক্রমে গিয়েছি। সভাপতি যদি জানাত ক্লাস আছে, তাহলে আমরা যেতাম না। আমরা ৫/৭ মিনিটের মতো আলোচনা করেছি। তখন প্রফেসর মতিনুর রহমান স্যার ক্লাসে ঢোকেন। তিনি উচ্চস্বরে বলেন, তোমরা কারা? এখানে কেন? এ সময় শিবির সেক্রেটারি ইউসুফ বলেন, আমরা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান স্যারের অনুমতি নিয়ে নবীন শিক্ষার্থীদের সাথে পরিচিত হতে এসেছি। তখন স্যার বলেন ক্লাসের সময় এখানে কি? এখনই বের হয়ে যাও। তখন শিবির সেক্রেটারি স্যারকে জানান, আমরা চলে যাচ্ছি।’ পরে বিভাগের সভাপতি ও প্রক্টর স্যারের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

জানা গেছে বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলামের কক্ষে দুপুর ১টার দিকে বসে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। বৈঠকে প্রফেসর মতিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. বেগম রোকসানা মিলি, প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান, বিভাগের প্রফেসর ড. লুৎফর রহমান, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলন ইবির সমন্বয়ক এস এম সুইট, শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মাহমুদুল হাসান, সেক্রেটারি ইউসুফ আলীসহ অন্য শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. ফকরুল ইসলাম বলেন, আমি জানতাম না ওই সময়ে কারো ক্লাস আছে। ক্লাসের বিষয়টি জানলে আমি তাদের সেখানে যাওয়ার অনুমতি দিতাম না। এটা একটু মিসটেক হয়েছে। পরে সবাইকে নিয়ে বসেছি। শান্তিপূর্ণভাবে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়েছে। তারা শিক্ষকের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছে। 

এ বিষয়ে প্রফেসর মতিন বলেন, শিডিউল অনুযায়ী বেলা ১২টার দিকে আমার ক্লাস ছিল। আমি শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার পর তাদের দেখি। চিনতামও না তারা আসলে কারা। পরে জানতে পেরেছি একটি ছাত্রসংগঠনের পক্ষ থেকে আসছে। বিভাগের সভাপতির উচিত ছিল তাদের অনুমতি দেওয়ার আগে কারো শিডিউল আছে কিনা সেটা দেখা। তবে তারা উপস্থিত হয়ে ক্ষমা চেয়েছে। ক্ষমা চাওয়ার পর আসলে কিছু করার থাকে না। একজন শিক্ষকের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে সেটা অপ্রত্যাশিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত