দিল্লিতে সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিক্ষেত্রের ছাদ ধসে নিহত ৫

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৫৩ পিএম

দিল্লির দক্ষিণ-পূর্ব নিজামুদ্দিনে অবস্থিত মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সমাধিক্ষেত্রের একটি গম্বুজ ধসে পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছে। 

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ দূর্ঘটনা ঘটে। দমকল বিভাগ জানায়, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কজন আটকা থাকতে পারে।

সন্ধ্যা নাগাদ উদ্ধারকারীরা পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দমকলের পাঁচটি ইউনিট ও পুলিশ ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালাচ্ছে।

সমাধিক্ষেত্রের অভ্যন্তরে দেশি-বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতি ছিল বেশি, কারণ দিনটি ছিল সরকারি ছুটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একটি ছোট সবুজ গম্বুজের একাংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। ঘটনাকালে ভবনটিতে ১৫-২০ জন অবস্থান করছিলেন, যাদের মধ্যে দরগাহর ইমামও ছিলেন।

বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের খবরে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও দুজন পুরুষ রয়েছেন। হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দক্ষিণ-পূর্ব জেলা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার জানান, নিহত দুই পুরুষের বয়স যথাক্রমে ৭৯ ও ৩৫ বছর এবং তিন নারীর বয়স ৪২, ৪০ ও ৪০ বছর।

এএনআইয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মোট ১১ জনকে উদ্ধার করে এআইআইএমএস ও লোকনায়ক হাসপাতালে পাঠায়।

এদিকে উদ্ধার তৎপরতা এখনও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ধসের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে, বিগত ২৫-৩০ বছরের পুরনো কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। মৌসুমি বৃষ্টির প্রভাব, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি বা নকশাগত ত্রুটি থাকলে তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

উল্লেখ্য, সম্রাট হুমায়ুনের স্ত্রী হামিদা বানু বেগম ১৫৬২ সালে এই সমাধি নির্মাণ করেন। বুখারার স্থপতি মির্জা গিয়াসের নকশায় বেলেপাথরের এই স্থাপনাটি মুঘলদের প্রথম উদ্যান-সমাধি, যা পরবর্তীতে তাজমহলের নকশায় প্রভাব রেখেছে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত এই স্থাপত্যকে মুঘল শৈলীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ নিদর্শন মনে করা হয়।

১৫২৬ সালে পানিপথের যুদ্ধে ইব্রাহিম লোদিকে পরাজিত করে বাবর দিল্লি দখল করলেও, ১৫৫৬ সালে হুমায়ুনের মৃত্যুর পর এই সমাধি নির্মিত হয়। শের শাহ সুরির বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরাজিত হয়েও তিনি পুনরায় দিল্লি শাসন করেন। পুরানা কিল্লার নিকটবর্তী এই সমাধি দিল্লির অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক গৌরব।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত