উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শবনম। ৬৫ বছরের ক্যারিয়ারে যে কটি বাংলাদেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তার সবই সমাদৃত হয়। ১৯৬০ সালের ২ সেপ্টেম্বর মুক্তিপ্রাপ্ত এহতেশাম পরিচালিত ‘রাজধানীর বুকে’ সিনেমায় ‘আমি রূপনগরের রাজকন্যা রূপের জাদু এনেছি’ গানে পারফর্ম করে প্রথম আলোচনায় আসেন শবনম। সর্বশেষ সিনেমা ‘আম্মাজান’-এ নাম-ভূমিকায় অভিনয় করার পর দর্শক ও চলচ্চিত্র মহলের সবাই এই নামেই সম্বোধন করেন তাকে। আজ এই নন্দিত তারকা পা রাখছেন ৭৯তম বছরে। জন্মদিন ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে দেশ রূপাস্তর
কেমন চলছে চলমান সময়?
শবনম : এই তো সবার আশীর্বাদে ভালোভাবেই কেটে যাচ্ছে সময়। তবে বয়স বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক অবস্থাও দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। নিয়ম করে চলতে হচ্ছে। একটু অনিয়ম হলেই শরীরের নানা সমস্যা টের পাই। তারপরও ওপরওয়ালার কাছে কৃতজ্ঞ, আমাকে এতটা বছর সুন্দর ও সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।
আমরা জানি, জন্মদিন বিশেষভাবে পালন করেন না। এবারের জন্মদিনটাও কি আয়োজনহীন?
শবনম : হ্যাঁ, ঠিকই অনুমান করেছেন। অনেক বছর ধরেই আমি নিজের জন্মদিনটা ওই রকম জমকালো বা অনাড়ম্বরভাবে পালন করি না। দিনটাকে এখন আমার কাছে আলাদা মনে হয় না। তবে কাছের মানুষ ও সহকর্মীদের অনেকেই যখন শুভেচ্ছা জানান, তখন এক ধরনের ভালো লাগা কাজ করে মনের মধ্যে। তখন ছোটবেলার কথা মনে পড়ে।
কেমন ছিল ছোটবেলার সেই দিনগুলো?
শবনম : ছোটবেলার বিষয়টিই ছিল অন্যরকম, উন্মাদনার। তখন জন্মদিন উদযাপন ছিল অনেক আনন্দের। সবচেয়ে বেশি ভালো লাগত সবার কাছ থেকে যখন গিফট পেতাম। এখন মিস করি সেই দিনগুলো। বাবা-মায়ের পর মিস করি ছোটবেলার সেই বন্ধুদের। আরও মিস করি ফেলে আসা দিনগুলো।
প্রচারবিমুখ হয়েও ২৬ বছর পর কোনো টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন। অনুভূতি জানতে চাই?
শবনম : সত্যি কথা বলতে, প্রায় ২৬ বছর পর কোনো টিভি চ্যানেলের মুখোমুখি হলাম। মূলত আম্মাজান চলচ্চিত্রের পর আমি যেমন আর কোনো সিনেমায় অভিনয় করিনি, তেমনই কোনো প্রোগ্রামেও অংশ নিইনি। তবে এবারের জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আইয়ের পক্ষ থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং আমাকে তাদের একটি সাক্ষাৎকারভিত্তিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এরই মধ্যে অনুষ্ঠানটির দৃশ্যধারণের কাজ হয়ে গেছে। এতদিন পর এ রকম একটা আয়োজনে এসে সত্যিই ভালো লেগেছে। অনুষ্ঠানটি রবিবার (১৭ আগস্ট) প্রচারিত হবে চ্যানেল আইতে।
‘আম্মাজান’-এর পর অভিনয়ে আর দেখা যাচ্ছে না কেন?
শবনম : তখন আমি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে অনিয়মিত ছিলাম। দীর্ঘদিন পাকিস্তানে ছিলাম। কাজী হায়াত সাহেবের অনুরোধে সিনেমাটিতে অভিনয় করি। ১৯৯৯ সালের ২৫ জুন সিনেমাটি মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি সাড়া পাওয়ার পর অনেকেই অনুরোধ করেন নতুন সিনেমায় অভিনয়ের জন্য। কিন্তু চলচ্চিত্রের বৈরী পরিবেশ, ভালো গল্প, চিত্রনাট্য ও চরিত্রের অভাব পাশাপাশি আরও কিছু ব্যক্তিগত কারণে সিনেমায় ফেরা হয়নি আর।
এখনকার সিনেমা কি দেখা হয়?
শবনম : এখনকার চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ নেই তেমন। মান্না মারা যাওয়ার পর ঢাকাই ছবি আমাকে আর টানে না। তবে প্রেক্ষাগৃহে না গেলেও সময় থাকলে মাঝেমধ্যে টিভিতে বাংলা সিনেমা দেখি।
আগামীর দিনগুলো কীভাবে কাটাতে চান?
শবনম : জীবনের শেষ সময়ে এসে পৌঁছেছি। সবার কাছে দোয়া চাই যত দিন বাঁচি, যেন সুস্থ অবস্থাতেই বাঁচি। আর আমার দেশটা যেন ভালো থাকে, দেশের মানুষ যেন শান্তিতে থাকে।
জিম্মি পরিবারের ডাকে ইসরায়েল জুড়ে ধর্মঘট
ঢাকাসহ সারাদেশে টানা ভারী বৃষ্টির আভাস
বাউফলে ছাত্রদল নেতাকে পেটাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ
স্থানীয় লিগেও সুযোগ হচ্ছে না 'যৌন নিপীড়ক' দয়ালের
পরিশ্রম কর, সাফল্যের কোনো শর্টকাট নেই: রোনালদো