ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় আখের রস থেকে তৈরি লাল চিনি প্রায় আড়াইশ বছরের ঐতিহ্য ধরে আসছে। মিহি দানার এই পাউডার জাতীয় চিনি স্থানীয়রা শরবত, পিঠা ও মিষ্টান্নে ব্যবহার করে থাকেন। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও শতভাগ বিশুদ্ধ, কোনো যন্ত্রের ব্যবহার ছাড়াই তৈরি হওয়ায় এর কদরও যথেষ্ট। প্রতি বছর উপজেলার উৎপাদিত চিনি শতকোটি টাকায় বিক্রি হয়। এবার ফুলবাড়িয়ার লাল চিনি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ আজ বুধবার জানান, জিআই পণ্যের জন্য আবেদন ২০২৪ সালের ১১ জুলাই করা হয়েছিল। এরপর ২৭ মে শিল্পমন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের জার্নালে প্রকাশিত হয়। কোনো পক্ষ দাবি না থাকায় সব প্রক্রিয়া শেষ করে সনদ পাওয়ার জন্য সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া হয়েছে।
নূর মোহাম্মদ জানান, জিআই স্বীকৃতি মূলত অর্থনীতিতে নতুন প্রভাব ফেলবে। আগে যারা লাল চিনি সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলেন, তারা এখন এ সম্পর্কে জানবেন। স্বীকৃতির ফলে চাষিরা উৎপাদন বাড়াবেন এবং সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাও বৃদ্ধি পাবে। অর্গানিক পণ্য হিসেবে দেশের বাইরে রপ্তানি হলে কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাকতা, কালাদহ ও রাধাকানাই ইউনিয়নের প্রায় ২০টি গ্রামের কৃষক আখ চাষ ও চিনি তৈরিতে যুক্ত আছেন। আখের রস আগুনে জ্বাল দিয়ে ঘর্ষণ পদ্ধতিতে লাল চিনি তৈরি করা হয়। আখ চাষের শুরু চৈত্র মাসে এবং আখ মাড়াই পৌষ মাসের প্রথম দিন থেকে। এক বছরে একটি ফসল হয় এবং আড়াই মাসে চিনি তৈরি হয়।
২০২৫ সালে ফুলবাড়িয়ায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশ জমিতে দেশি জাতের আখ এবং বাকি জমিতে ঈশ্বরদী-৪১ ও ৪২ জাতের আখ। প্রতি হেক্টর জমি থেকে ৮ মেট্রিক টন লাল চিনি উৎপাদন হয়। এক মণ লাল চিনি গড়ে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। এ বছর প্রায় ১০৮ কোটি টাকার লাল চিনি বিক্রি হয়েছে। এক কেজি লাল চিনি তৈরি করতে চার কেজি আখের রস লাগে।
স্থানীয়রা জানান, লাল চিনি তৈরি করতে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। পুরো প্রক্রিয়া হাতে ম্যানুয়ালি করা হয়। এই পদ্ধতির কারণে শরবত বা মিষ্টান্নে ব্যবহার করলে কাঁচা আখের স্বাদ বজায় থাকে। স্থানীয় চিনি ব্যবসায়ী মো. আবদুল মজিদ বলেন, জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় চাহিদা আরও বাড়বে এবং ব্যবসার বিস্তার ঘটবে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, আজ আমরা জিআই স্বীকৃতি নিশ্চিত করেছি এবং সনদ পাওয়ার জন্য ফি জমা দিয়েছেন। এ স্বীকৃতি এই অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দ্বিতীয় ইরান হয়ে উঠছে ইয়েমেন, দুশ্চিন্তায় ইসরায়েল
খারাপ অভ্যাস ছেড়েছেন, কিছুতেই ওজন কমছে না আজম খানের