নজরুল চর্চাকে ছড়িয়ে দিতে চাই

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:২০ পিএম

ফেরদৌস আরা-দেশের বিশিষ্ট ও আলোকিত এক নজরুল সংগীতশিল্পী। এক এক করে সংগীত জীবনের ৪৮ বছর অতিক্রম করছেন তিনি। একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য এই সংগীতশিল্পীর সুর-সাধনা শুরু হয় শাস্ত্রীয় সংগীত দিয়ে। এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে প্রস্তুত করেন সংগীতের বিভিন্ন শাখায়। একসময় ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৯তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে  দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। 

কেমন কাটছে চলমান সময়?

ফেরদৌস আরা : আলহামদুলিল্লাহ সবার দোয়ায় ভালো আছি। আপনাদের আর্শীবাদে এখনো গলার অবস্থা ভালো আছে। তার জন্য সৃষ্টি কর্তার কাছে বিশেষ শুকরিয়া। যতদিন বেঁচে আছি এভাবে সুস্থ দেহ-মন নিয়ে সারাজীবন গান নিয়েই থাকতে চাই। 

এবারের নজরুল প্রয়াণ দিবসে কী করছেন?

ফেরদৌস আরা : প্রতিবারের মতোই টুকটাক ব্যস্ততা থাকবে। আমার নিজস্ব সংগীত শিক্ষালয় ‘সুর সপ্তক’ থেকেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালন করব। প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেগুলোতে অংশ নেব। তবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ দিবসে আমাকে ঘিরে ব্যতিক্রমী আয়োজন করেছে চ্যানেল আই। 

কেমন ব্যতিক্রম?

ফেরদৌস আরা : আজ সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে চ্যানেল আই প্রচার করবে আমার একক সংগীত পরিবেশনা ‘মোরা আর জনমে’। এ ধরনের একক পরিবেশনা আগেও অনেকবার প্রচার করেছে চ্যানেলটি। তবে ব্যতিক্রম বলছি এ কারণে এই প্রথম পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতের বালুকাবেলা ও প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর পরিবেশে শুটিং করা হয়েছে নজরুলের গান। অনুষ্ঠানটিতে থাকছে নজরুলের বেশকিছু জনপ্রিয় গান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘তেপান্তরের মাঠে’, ‘মোরা আর জনমে’, ‘এ কোন মায়ায়’ ও ‘দোলে বন-তমালের ঝুলনাতে’। বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে দোলে বন-তমালের ঝুলনাতে গানটি, যা এবারই প্রথমবারের মতো আউটডোর লোকেশনে ধারণ করা হয়েছে। কুয়াকাটা ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন স্থানের মনোরম লোকেশন ব্যবহার করা হয়েছে এখানে। প্রাকৃতিক পরিবেশে নজরুলের গানের সঙ্গে সুর, বাণী ও আবেগের এক অনন্য সমন্বয় দর্শকের কাছে বিশেষ আবেদন সৃষ্টি করবে বলে বিশ্বাস সংশ্লিষ্টদের। 

তরুণ প্রজন্মের কাছে নজরুলগীতি কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে?

ফেরদৌস আরা : সত্যি কথা বলতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে নজরুলের গান। তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও নজরুলগীতির চর্চা বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে নজরুল সম্মানিত। আরেকটি বিষয়, এখন অনেক প্রতিযোগিতা ও প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে, যেখানে তরুণরা অংশ নিচ্ছে। আগে পরিবারগুলো অনেক সময় ছেলেমেয়েদের প্রতিভার প্রতি উদাসীন থাকত, এখন সেটা বদলেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও এখন তরুণেরা নজরুলগীতি চর্চা করছে। এটা আশাব্যঞ্জক। বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে নজরুল চর্চাটা আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি। এই সময়ের শিল্পীরা নজরুল সংগীত নিয়ে অনেক উদ্যমী। বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ-বিভিন্ন সংগঠনে নজরুল-চর্চা হচ্ছে। 

নজরুলগীতিতে কতটা নতুনত্ব আনা সম্ভব?

ফেরদৌস আরা : নজরুলের গানের তো বিশাল সম্ভার। আমি নিজেকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি। আমার পরিবেশনায় সেই গানগুলো প্রাধান্য থাকে যে গানগুলো নজরুলের লেখা, নজরুলের সুর, কিন্তু পাওয়া গেছে নতুন করে বা সাম্প্রতিক সময়ে। এগুলোকে নতুন করে গাওয়ার চেষ্টা করি। সামনে আনার চেষ্টা করি। অনেকগুলো গানের সুর অন্যরা অন্যরকমভাবে গাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আমি আদি রেকর্ড থেকে প্রমিত সুরে, শুদ্ধ বাণীতে সেই গান করছি। যার জন্য নতুনত্ব থাকে।

নজরুলের গান নিয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনা আছে?

ফেরদৌস আরা : পরিকল্পনা তো আছেই। তার কিছু কিছু বাস্তবায়ন করেছি, আবার কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চলছে। তবে আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন নতুনদের মধ্যে নজরুলের গানের বিশাল ভান্ডার ছড়িয়ে দেওয়া।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত