চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (চাকসু) নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট করানো হবে। ডোপ টেস্ট পজিটিভ প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যাবে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টায় চাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা প্রকাশ করে।
চাকসু নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ শিরোনামে বিভিন্ন আচরণবিধি প্রকাশ করা হয়।
চাকসুর সংশোধিত গঠনতন্ত্রের আলোকে এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সভায় গৃহীত হল সংসদ সমূহের সিদ্ধান্তের আলোকে চাকসু নির্বাচনের আচরণবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই বিধিমালায় উল্লেখিত প্রতিটি বিধি চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের সংশ্লিষ্টরা মেনে চলতে বাধ্য থাকবেন বলে আচরণবিধিতে উল্লেখ করা হয়। চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষার্থীকে সচেতন থাকতে আচরণ বিধিমালায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই বিধিমালায় সর্বমোট ১৭টি বিধি সংযোজন করা হয়েছে।
নির্বাচনী আচরণ বিধিতে বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং দাখিলের সময় কোনো প্রকার মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। প্রার্থী পাঁচ জনের বেশী সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে আসতে পারবেন না।
আচরণবিধিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো প্রার্থী কর্তৃক রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোনয়নপত্র দাখিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় অন্য কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অন্য কোন সংগঠনের কেউ কোনো প্রকার বাঁধা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবেন না। এছাড়া চাকসু নির্বাচনে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে চাইলে তাকে অবশ্যই সশরীরে উপস্থিত হতে হবে।
ডোপ টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ হলে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল বলে গণ্য হবে। ডোপ টেস্টের বিষয়ে জানতে চাইলে চাকসু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যখন মনোনয়ন ফরম নিবেন তখন আমরা তাকে ডোপ টেস্ট করানোর জন্য একটি কার্ড প্রদান করব। তখন প্রার্থী সেই কার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে গিয়ে টেস্টের জন্য নমুনা দিয়ে আসবে। পরবর্তীতে মেডিকেলের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডোপ টেস্টের রিপোর্ট চাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে পাঠাবেন। ডোপ টেস্টের ফি প্রার্থীকে বহন করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আত্মপক্ষকে সমর্থনের আমরা সুযোগ দেব। যেন তার আত্মসম্মান বজায় থাকে। প্রার্থীকে তার রিপোর্টের বিষয়ে একাকী জানানো হবে।’
অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণার বিষয়ে চাকসু নির্বাচন কমিশন একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। প্রার্থীদেরকে আইনসিদ্ধ ইতিবাচক পদ্ধতিতে অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালাতে হবে। দেশের প্রচলিত আইনে নিষিদ্ধ কোন কাজ করতে পারবে না প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রচারণায় ও প্রচারপত্রে কিংবা প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্র হনন, গুজব, মানহানিকর আচরণ, অশালীন উক্তি ও উস্কানিমূলক কোন কথা কিংবা কোন অসত্য তথ্য ছড়ানো যাবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোন বক্তব্য ব্যবহার করা যাবে না বলে আচরণ বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অনলাইনে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের কোন অভিযোগ পাওয়া গেলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্বাচনের জন্য ক্ষতিকর যে কোন অনলাইন সাইট বা গ্রুপ বন্ধের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। এছাড়া দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে নির্বাচন কমিশন।
কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। তাছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে কমিশন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার অথবা রাষ্ট্রীয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অন্য যে কোনো শাস্তি দিতে পারবে কমিশন।
