মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৯:০৮ এএম

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সেপ্টেম্বরের অধিবেশনের আগে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এবং ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের নেতাদের ভিসা বাতিল ও প্রত্যাখ্যান করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন, যিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তে তারা ‘অত্যন্ত বিস্মিত’ এবং এটিকে জাতিসংঘ সদর দফতর সংক্রান্ত চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে। জাতিসংঘের সদর দফতর নিউ ইয়র্কে অবস্থিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উচিত সকল রাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।

তবে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছে—ফিলিস্তিন মিশনের উপস্থিতি নিশ্চিত করেই তারা ওই চুক্তি অনুসরণ করছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে— জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পিএলও এবং ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে তাদের প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন এবং শান্তির সম্ভাবনা নস্যাৎ করার জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।’

গার্ডিয়ানে বলা হয়, এই পদক্ষেপ ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে ইসরায়েলের ডানপন্থী সরকারের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যারা একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ধারণা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে।

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘আইনি যুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

মার্কিন বিবৃতিতে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা ‘একতরফাভাবে একটি কল্পিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জনের প্রচেষ্টা’ পরিত্যাগ করে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এক্স-এ পোস্ট করেন, ‘এই সাহসী পদক্ষেপ এবং পুনরায় ইসরায়েলের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

জাতিসংঘ মুখপাত্র স্তেফান দুজারিচ বলেছেন, সাধারণ পরিষদের ঠিক আগের দিন নির্ধারিত এক সম্মেলনে সমস্ত রাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিত থাকা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘পিএলও ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের শান্তির অংশীদার হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আগে তাদের অবশ্যই সন্ত্রাসবাদ—বিশেষত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলা—স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সন্ত্রাসবাদ উসকে দেওয়া বন্ধ করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত