সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের পোতাজিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের চাঁদাবাজি ও ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক অফিসের চেয়ার ভাঙচুরের প্রতিবাদে উত্তরবঙ্গ ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে ৫ ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে।
রবিবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপোর সামনের সড়কে শ্রমিকরা দুটি ট্যাঙ্কলরি দিয়ে সহাসড়কে ব্যারিকেট দিয়ে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন।
অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে মহাসড়কের দুই পাশে ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে শত শত যানবহণ আটকা পড়ে চরম যাত্রী দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। দুপুর ১টার দিকে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামানের ন্যায় বিচার প্রদানের আশ্বাসে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন।
এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গ ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুর রহমান গ্যাদা বলেন, শনিবার (৩০ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে পোতাজিয়া ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিসের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন নেতাকর্মী বাঘাবাড়ি নৌবন্দর এলাকায় অবস্থিত উত্তরবঙ্গ ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসে এসে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের মধ্যে ৫/৬ নেতাকর্মী উত্তরবঙ্গ ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়ন অফিসের কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও দল থেকে বহিষ্কারের দাবিতে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ন্যায়বিচার দেওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা এ অবরোধ তুলে নেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে পোতাজিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস বলেন, বাঘাবাড়ি নৌবন্দর এলাকা বড়াল নদীতে উত্তরবঙ্গ ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আগামী ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর দুই দিন নৌকা বাইচের আয়োজন করেছে। এই নৌকা বাইচ চলাকালে বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে জাহাজ থেকে পণ্য লোড-আনলোডে বিঘ্ন সৃষ্টি হবে। ফলে বন্দর লেবার ইজারাদারের আর্থিক ক্ষতি হবে। এ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেতে শনিবার রাতে ট্যাঙ্কলরি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সেখানে যাই। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এরই জের ধরে তারা মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে এ অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি মো. আছলাম আলী জানান, পোতাজিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে ট্যাঙ্কলরির শ্রমিকরা এ আন্দোলন করেছেন। শ্রমিকরা চাঁদাবাজির অভিযোগ দিলে দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
