আফগানিস্তানের দুইটি দুর্গম প্রদেশে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০০ দাঁড়িয়েছে। শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার (০১ সেপ্টম্বর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।
আফগানিস্তানের গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান জানান, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক হাসপাতালগুলোতে ৪০০-এর বেশি আহতকে ভর্তি করা হয়েছে এবং বহু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
দূরবর্তী এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনও বাকি জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। রিখটার স্কেলে মধ্যরাতের এই ভূমিকম্প ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হেনেছে। কুনার প্রদেশের তিনটি গ্রাম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, এছাড়া অনেক গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এক গ্রামে প্রাথমিক প্রতিবেদনে ৩০ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে এবং শতাধিক আহতকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।
প্রদত্ত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আহতদের নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে। স্থানীয় মানুষরা সৈন্য ও চিকিৎসকদের সঙ্গে সহযোগিতা করে আহতদের অ্যাম্বুল্যান্সে তুলে দিচ্ছেন।
উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকায় কাদা ও পাথরের ঘরগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। তালেবান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের কাছে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই, তাই আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া উদ্ধার কাজ সীমিত থাকবে।
এফএমপির একজন মুখপাত্র জানান, এখনও কোনো বিদেশি সরকার উদ্ধার বা ত্রাণকাজে সরাসরি সহায়তা দেয়নি।
আফগানিস্তান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল, বিশেষ করে হিন্দুকুশ পর্বতমালার এলাকায়। এখানকার ভূমিকম্প বিশেষভাবে প্রাণঘাতী, কারণ ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটনিক প্লেটের সংযোগ স্থানে অবস্থান করছে। গত বছর দেশের পশ্চিমাঞ্চলে একাধিক ভূমিকম্পে ১,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, যা প্রমাণ করে আফগানিস্তান প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।
এই দুর্যোগ ইতিমধ্যেই মানবিক সংকটের মধ্যে থাকা দেশের সীমিত সম্পদকে আরও চাপ দিচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর কারণে আফগান জনগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সূত্র: জিও নিউজ
মাঠে ফিরে বিবর্ণ নেইমার, রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে দেখলেন কার্ড
নাটোরে ট্রেনে কাটা পড়ে ভারসাম্যহীন যুবকের মৃত্যু