চমৎকার বোলিংয়ে ডাচদের ১০৩ রানে গুটিয়ে দিলেন নাসুম-মোস্তাফিজরা

 

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:৩৮ পিএম

প্রথম ম্যাচে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে যেন দাঁড়াতেই পারলেন না ডাচ ব্যাটসম্যানরা। জুটি গড়তে নিদারুণ ব্যর্থ হয়ে এই ম্যাচে তারা গুটিয়ে যান মাত্র ১০৩ রানে। উল্টো দিকে নৈপুণ্যে উজ্জ্বল বাংলাদেশের বোলাররা। টস জিতে আগে বোলিং করার অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ করেন তারা। একাদশে সুযোগ পেয়ে ২১ রানে ৩ শিকার ধরেন নাসুম। দুটি করে উইকেট করে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর ও তাসকিন। আর একটি করে তানজিম ও মেহেদি।

তৃতীয় ওভারে জোড়া আঘাত হানেন নাসুম আহমেদ। লেন্থে করা ডেলিভারিটি মিস হিট করেন ম্যাক্স। সহজেই উচুতে ওঠা বলটি তালুবন্দি করেন তাওহীদ হৃদয়। পরের বলে আবার চওড়া হাসি ফোটে নাসুমের মুখে। তৃতীয় বলে তুলে নেন নিজের ও দলের হয়ে দ্বিতীয় উইকেট। এবার তার শিকার বনেন তেজা নিদামানুরু। গালি অঞ্চলে পারভেজ ইমনের হাতে ক্যাচ দিয়ে রানের খাতা খোলার আগেই ধরেন সাজঘরের পথ।

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ডাচদের ওপর তৃতীয় আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে তৃতীয় বলে তিনি ফেরান ওপেনার বিক্রমজিত সিংকে। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে থাকা তানজিম হাসান সাকিবের মাথার ওপর দিয়ে চালাতে চেয়েছিলেন বিক্রম। কিন্তু সফল হননি। ধরা পড়েন তানজিমের হাতে। ৪ চারে ১৭ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলেন বিক্রম।

পরের বলেই নাসুমের মতো জোড়া শিকারের আনন্দে ভাসতে পারতেন তাসকিন। কিন্তু এবার থার্ডম্যান অঞ্চলে তানজিমই ফেলে দেন ক্রিজে নতুন আসা শারিজ আহমেদের ক্যাচ। পাওয়ার প্লে শেষে ৩ উইকেট ৪০ রান তোলে নেদারল্যান্ডস। তানজিমের মতো দলকে আরও একটি উইকেট এনে দেওয়ার সুযোগ নষ্ট করেন তাওহীদ হৃদয়ও। সপ্তম ওভারে নন-স্ট্রাইক প্রান্তে রান আউট করার সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন হৃদয়। এবারও বেঁচে যান শারিজ।

দুই সুযোগ নষ্টের হতাশা কাটান মোস্তাফিজুর রহমান। নবম ওভারে তাকে বোলিংয়ে আনেন লিটন। তৃতীয় বলেই তুলে নেন স্কট এডওয়ার্ডসকে। মোস্তাফিজের অফ কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ তুলে দেন ডাচ অধিনায়ক। শর্ট মিড অন থেকে দৌড়ে গিয়ে তা মুঠোয় পুড়েন পারভেজ ইমন। ১১ বল খেলে এডওয়ার্ডস নিতে পারেন ৯ রান।

ডাচদের পঞ্চম উইকেটটি আসে সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের কল্যানে। শর্ট মিড উইকেটে থাকা সাইফ প্রথমে ঝাপিয়ে পড়ে রান হওয়া ঠেকান। নন স্ট্রাইকে নোয়াহ ক্রোয়েসকে বাইরে দেখে তড়িৎ গতিতে থ্রো করেন। প্রথম দেখায় আউট মনে হয়নি। তবে প্রথমবার পুরুষদের ক্রিকেটে টিভি আম্পায়ারিং করতে নামা সাথিরা জাকির জেসি রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত দেন আউটের পক্ষে। পরের বলেই শারিজকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তানজিম। দুবার জীবন পেয়েও ১৭ বলে ১২ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। পরের ওভারে সাকিব জুলফিকারকে বোল্ড করে দেন মোস্তাফিজ।

দ্বিতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসেও সফল তাসকিন। ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে নিজের দ্বিতীয় শিকার হিসেবে ফেরান কাইল ক্লেইনকে। নিজের শেষ ওভারে নাসুম আঘাত হানেন আরেকবার। তাতে ৮১ রানে ৯ম উইকেট হিসেবে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন পল ফন মিকেরেন। শেষ উইকেট হিসেবে ক্যারিয়ার সেরা ৩০ রানের ইনিংস খেলে শেখ মেহেদির শিকার হয়ে থামেন আরিয়ান দত্ত। সিরিজ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের চাই ১০৪ রান।

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত