মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের নাম পরিবর্তন করে ‘যুদ্ধ দপ্তর’ (Department of War) রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) এই সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করতে যাচ্ছেন তিনি। দেশটির সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে।
নাম পরিবর্তনের যুক্তি দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, দুটি বিশ্বযুদ্ধসহ অসংখ্য যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দফতরের নামে ‘প্রতিরক্ষা’ শব্দটি থাকা উচিত নয়। তাঁর দাবি, ‘যুদ্ধ দপ্তর’ নামটি অনেক বেশি শক্তিশালী ও অর্থবহ। ট্রাম্পের ভাষায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিটার হেগসেথ-এর মুখে ‘প্রতিরক্ষা দফতর’ নামটি শুনলেই আমার খুব খারাপ লাগে। আমরা কেন নিজেদের শুধু রক্ষা করতে যাব? তাই এখন থেকে ‘যুদ্ধ দপ্তর’ কথাটিই ব্যবহার করা হবে। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধ জিতেছি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জিতেছি। আমরা সব যুদ্ধেই জয়ী হয়েছি। তার পরেও আমাদের দফতরের নামের আগে ‘প্রতিরক্ষা’ শব্দটা থাকবে?
ঐতিহাসিকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রে একসময় ‘যুদ্ধ দপ্তর’ নামে একটি বিভাগ ছিল। ১৭৮৯ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এতে একজন যুদ্ধ সচিবের পদও ছিল। ১৭৯৮ সালে একটি আলাদা নৌ দফতর তৈরি হয়। তখন যুদ্ধ দফতরই মূলত নৌ ও বিমান বাহিনীর কাজ পরিচালনা করত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুমান জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায়, নৌ-বিমান বাহিনীর জন্য আলাদা দফতর প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর সব বিভাগকে একীভূত করে ‘ন্যাশনাল মিলিটারি এস্টাবলিশমেন্ট’ (এনএমই) গঠন করা হয়, যার নাম পরে পরিবর্তন করে ‘প্রতিরক্ষা দফতর’ রাখা হয়। ট্রাম্প এখন সেই নাম আবারও পরিবর্তন করতে চলেছেন।
এই ঘোষণার আগে, বুধবার চীনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ও জাপানের বিরুদ্ধে চীনের বিজয় উপলক্ষে আয়োজিত একটি সামরিক কুচকাওয়াজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে একই মঞ্চে দেখে কটাক্ষ করেন ট্রাম্প। চীনের সেই বিজয় উৎসবে আমেরিকা উপেক্ষিত হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, চীনের বিজয় ও গৌরব ফিরিয়ে আনতে অনেক আমেরিকান প্রাণ দিয়েছেন। আমি আশা করি, তাদের সাহস ও ত্যাগের যথাযথ সম্মান দেখানো হবে।
বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, চীনের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পরই ট্রাম্পের এই মন্তব্য ও প্রতিরক্ষা দফতরের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিছক কাকতালীয় নয়। তারা দাবি করছেন, সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিকল্প নেই-এই বার্তা দিতেই ট্রাম্প এমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
